জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলী স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন। নির্মাতার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন তার স্বামী অভিনেতা প্রাণ রায়। চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান,“চিকিৎসা এখনও দীর্ঘমেয়াদি পর্যায়ে রয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে কত সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না।”
প্রাণ রায় বলেন, “স্ট্রোক করার পর সে প্যারালাইজড হয়ে যায়। সাড়ে তিন মাস ধরে চিকিৎসা চলছে। এখন আবার নিয়মিত থেরাপি চলছে।”
তিনি জানান, কাকলী এখনও হাঁটতে পারছেন না। বাম হাত ও পা নড়াতে পারছেন না। হাতে তীব্র ব্যথা রয়েছে, সেটি রিকভারের চেষ্টা চলছে। “নিজে থেকে উঠেও বসতে পারে না। তবে এখন স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ারে তুলে কিছুটা মুভ করানো যাচ্ছে। এটুকু উন্নতি হয়েছে,” বলেন তিনি।

বর্তমানে কাকলী রাজধানীর মিরপুরে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজড (সিপিআর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন একাধিক থেরাপি দেওয়া হচ্ছে তাকে।
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা হওয়ায় ব্যয়ও বেড়েই চলেছে। প্রাণ রায় জানান, প্রতিদিনের থেরাপি ও চিকিৎসা মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তার ভাষায়,“বন্ধু বান্ধব শুভাকাঙ্খী পরিবার- সবাই মিলেই হেল্প করছে বলেই এতোদিন পার করতে পেরেছি। এভাবে আর কতোদিন পারবো এভাবে, জানি না।”
এর আগে স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ব্যক্তিগত গাড়ি বিক্রি করতে হয়েছে বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রাণ রায়। অসুস্থতার পর থেকে নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না তিনি, ফলে আয়ের পথও প্রায় বন্ধ।
“দুজনের কেউ আমরা বৈষয়িক না। এটা কখনোই ভাবি নাই যে, আমাদের প্রচুর অর্থ সম্পদ করতে হবে। আমরা যা আয় করেছি, সেটাই মনের আনন্দে খরচ করেছি। কারণ আমাদের কাছে মনে হতো, একটা বয়সের পর ইচ্ছে থাকলেও আনন্দ করা যায় না। এজন্য সঞ্চয় করা হয়ে উঠেনি, এখন এসে মনে হয় সঞ্চয়টা করা দরকার ছিলো।” বলছিলেন প্রাণ রায়।
সংগঠনগুলো সহায়তা করছে কিনা জানতে চাইলে চ্যানেল আই অনলাইনকে প্রাণ বলেন,“সংগঠনগুলোর মধ্যে আমার অভিনয় শিল্পী সংঘ একটা ক্ষুদ্র সহায়তা করেছে। তাছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে এখনো তারা খোঁজ খবরও রাখছে। কিন্তু ডিরেক্টর গিল্ড বা এফডিসির পরিচালকদের যে সংগঠন; তাদের কাছ থেকে ওইভাবে কোনো সাহায্য আমরা পাইনি। শুরুতে তারা এসেছিলেন, কিন্তু পরে তারা আর যোগাযোগও করেননি।”
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন নির্মাতার এই দুঃসময়ে রাষ্ট্রীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে প্রাণ রায় বলেন,“এখনো সরকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।”
“রাষ্ট্রের কাছে যাওয়া শেষ ধাপ। যতক্ষণ নিজেদের পক্ষে সম্ভব, ততক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে চাই। আমি ঠেকে গেলে অবশ্যই রাষ্ট্রের কাছে যাবো। আশা করি রাষ্ট্র হেল্প করবে,” বলেন তিনি।
কাকলীর নির্মিত সবশেষ চলচ্চিত্র ‘ফ্রম বাংলাদেশ’। এটির শুটিং শেষ করেছেন আগেই। প্রাণ জানান, এই সিনেমাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুটিং শেষ হলেও সম্পাদনার সামান্য কাজ বাকি রয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সেটিও আটকে আছে বেশ ক’মাস ধরে।
প্রাণ রায় বলেন,“এই সিনেমাটি মুক্তি পেলেও কিছু আর্থিক সাপোর্ট পেতাম।”
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে নির্মিত ‘উত্তরের সুর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন শাহনেওয়াজ কাকলী। ছবিটি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসিত হয় এবং চারটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। এরমধ্যে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার ছাড়াও শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার হিসেবে এই ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন কাকলী।








