মেক্সিকোর দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ভূমিকম্পে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) আমেরিকায় বিবিসির সংবাদ অংশীদার সিবিএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে নিহতের সংখ্যা দুইজন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
৬ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোস এলাকার কাছে, যা জনপ্রিয় পর্যটন শহর আকাপুলকোর নিকটবর্তী। ভূমিকম্পের প্রভাব রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ আশপাশের অঞ্চলেও অনুভূত হয়।
গুয়েরেরোর গভর্নর এভলিন সালগাদো জানিয়েছেন, রাজ্যটিতে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারী মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে, মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পের পরপরই একাধিক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে।
মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যেন সর্বদা জরুরি ‘লাইফ ব্যাকপ্যাক’ প্রস্তুত রাখেন। মেক্সিকোর জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যাকপ্যাকে টর্চলাইট, রেডিও, পানি, ভালো খাবার, উষ্ণ পোশাক এবং গুরুত্বপূর্ণ নথির ফটোকপি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে দুটি কাঠামো ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রুগাদা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৩৪টি ভবন এবং পাঁচটি বাড়ি পরিদর্শন করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের আগে ভোরে মেক্সিকান সিসমিক অ্যালার্ট সিস্টেম সক্রিয় হলে মেক্সিকো সিটি ও আকাপুলকোর বহু বাসিন্দা ও পর্যটক রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর দেশটিতে এই ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়।
ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম বছরের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন। ঘটনার একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এটা কাঁপছে, ঠিক তখনই পেছনে ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থা বেজে ওঠে। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের শান্তভাবে ভবন ত্যাগ করার নির্দেশ দেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে মেক্সিকো সিটিতে ভবন কাঁপতে এবং গুয়েরোর আকাপুলকোতে গাড়ি দুলতে দেখা যায়।
মেক্সিকো বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্প-প্রবণ দেশ। এর আগে ২০১৭ সালে মেক্সিকো সিটিতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং বহু ভবন ধসে পড়ে।







