১৪ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা দিনাজপুরের মৃৎশিল্পীরা।
মৃৎশিল্পীরা এখন মাটি, খড়, সুতলি আর বাঁশ দিয়ে সরস্বতী পূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত। ইতিমধ্যে প্রতিমার কাঠামো ও মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে। পরে রঙ আর তুলি আঁচড়ের কারুকার্য প্রতিমার রূপ ফুটিয়ে তোলার। সামনে সপ্তাহে শুরু হবে রং-তুলির আঁচড়। শেষে চলবে প্রতিমা বেচা-বিক্রি। এই বেচা-বিক্রি চলবে পূজা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত।
সরেজমিনে দিনাজপুর জেলার পাকেরহাট হাসপাতাল রোড ও বিষ্ণুপুর সেন পাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। এখানে তৈরি হচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের প্রতিমা। পছন্দের প্রতিমার অর্ডার দিতেও বেড়েছে ক্রেতাদের আনাগোনা। প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামাদির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি করে লাভ কম হলেও থেমে নেই মৃৎশিল্পীদের আদি পেশাদারি এ কাজ।
সনাতন ধর্ম মতে, বিদ্যার দেবী সরস্বতী। হিন্দু শিক্ষার্থীরা আশীর্বাদ লাভের আশায় প্রতিবছর পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর পূজা করে থাকেন। হিন্দু ধর্মবালম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে নির্মাণ করা অস্থায়ী মন্দির। এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূজা উদযাপনে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আকারভেদে প্রতিটি প্রতিমা ৭ শত টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দামে বিক্রি করা হয়। লাভ কম হলেও মজুরির টাকা উঠায় মৃৎশিল্পীরা তাদের বাপ-দাদার আদি পেশা ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন।
সরস্বতী প্রতিমা অর্ডার দিতে আসা শিক্ষার্থী সৌরভ, কার্তিক, মহন্ত, সুশান্ত জানালেন —প্রতি বছরে মতো এবারও বাড়িতে সরস্বতী পূজা উদযাপন করবে তারা। তাই পছন্দের প্রতিমা ক্রয়ের জন্য অর্ডার দিতে এসেছে। বিদ্যার দেবীর পূজা-অর্চনা করতে স্কুল ও বাসায় তাদের আয়োজনের কমতি নেই বলেও জানালেন।
পাকেরহাট হাসপাতাল রোডের প্রতিমা তৈরির কারিগর মৃৎশিল্পী নরেশ রায় বলেন, ‘প্রায় ২২ বছর ধরে এই কাজ করছি। প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল বা জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় অনেকে এই পেশা ছেড়ে দিয়েছে। লাভ কম তবুও বাপ-দাদার পেশা ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এখনো বিভিন্ন পূজায় প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এক পেশায় এখন সংসার চলার কোনোমতো উপার্জন হয়।’
বিষ্ণুপুর সেন পাড়া এলাকার মৃৎশিল্পী সবুজ সেন বলেন, ‘যেকোনো পূজা আসলেই আমাদের কদর বাড়ে। প্রতিমা তৈরি জন্য আমাদের ডাক পড়ে ও ব্যস্ততা বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে কাঁচা মালামালের দাম বৃদ্ধি পেলেই সেই অনুযায়ী প্রতিমার দাম তেমন বৃদ্ধি হয়নি। তবে লাভ কম হলেও পৈতৃক আদি পেশা প্রতিমা তৈরি করছি। যাতে পূর্ণতা পাওয়া যায়।








