বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে কার্যকর বিরোধী দল থাকবে না।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির এককভাবে সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে।’
প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে দলটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করেছিল।
সম্প্রতি জামায়াত ঐক্য সরকার গঠনের আগ্রহ দেখালেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেতে আশাবাদী। এবারের নির্বাচনে দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
আসনসংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু না জানালেও তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপি পাবে।
জনমত জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ও এনসিপির কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক যেকোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়ানো হবে অগ্রাধিকার।
শেখ হাসিনার পরিবারের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণ গ্রহণ করলে যে কেউ রাজনীতি করতে পারে।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।








