রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সড়ক পার হওয়ার সময় পর্বতারোহী শায়লা বিথীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কারা জড়িত সেটা জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। তারা আশপাশের এবং রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করাসহ প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ করছে।
আজ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শায়লা বিথীর স্বামী সাংবাদিক তৈমুর ফারুর তুষার বলেন, ‘পর্বতারোহী শায়লা বিথী ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কের ওভারব্রিজ পার হচ্ছিলো। পেছন থেকে হামলাকারীরা এসে চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। হামলায় তার ঠোঁট ফেটে গেছে। সারা শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন।’
কারা কী উদ্দেশ্যে এ হামলা করেছে তা পুলিশকে বের করতে হবে, দাবি করে তিনি বলেন, ‘দুপুর ২টার পরে দিনের আলোতে এ হামলার দৃশ্য নিশ্চয়ই সিসিটিভিতে রেকর্ড আছে। ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হওয়ার কথা না। শায়লা বিথী অভিযোগ জানাতে মোহাম্মদপুর থানায় গেছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: পর্বতারোহী শায়লা বিথীর ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ আইনগত সকল ব্যবস্থা নেবে।
অভিযোগ জানাতে ভুক্তভোগী শায়লা বিথী শেরেবাংলা নগর থানায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অজ্ঞাত কারা জড়িত থাকতে পারে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী হামলাকারীকে চেনেন না। ঘটনাস্থলের সিটিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ দেখা হচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর স্বজনেরাও আছে। তারা পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইলে তা করা হবে।
হামলার এ ঘটনায় নারী অধিকারকর্মী খুশি কবীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা দায়িত্ব নিয়েছে, এক মাস হয়ে গেছে। এখনও যদি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলে নেওয়া না যায়, সেটা শঙ্কার। এভাবে তো চলতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিতে একদিনও সময় দেওয়া যায় না। কারণ এটা মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
শায়লা বিথীর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে ৮টি পর্বতাভিযান, ট্রেকিং ও ট্রেনিং। সর্বশেষ তিনি ২০২১ সালের অক্টোবরে হিমালয়ের আইল্যান্ড পর্বতচূড়া জয় করেন। শায়লা বিথী ২০১৬ সালে ভারতের নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টিনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন।
প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১৮ সালের মে মাসে তিব্বতের লাকপারি (৭ হাজার ৪৫ মিটার) পর্বতচূড়া জয় করেন। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে হিমালয়ের দুর্গশ তাশি লাপচা (৫ হাজার ৭৫৫ মিটার) গিরিপথ পার হন। ১ম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে হিমালয়ের বিখ্যাত থ্রি-পাস অতিক্রম করেন।
এছাড়াও শায়লা বিথী ২০১৫ সালে নেপালের মাউন্ট কেয়াজুরির বেসক্যাম্প (১৫ হাজার ৫শ ফুট উচ্চতা) ট্রেকিং করেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সফলভাবে নেপালের মেরা পর্বতের চূড়ায় (৬ হাজার ৪৭৪মিটার) ওঠেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে নেপালের থ্রংলা পাস (৫ হাজার ৪১৬ মিটার) অতিক্রম করেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রথম বাংলাদেশি দলের অংশ হয়ে মানাসলু সার্কিট (৫ হাজার ১০৬ মিটার) সম্পন্ন করেন।








