মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রমবাজার পুনরায় চালু, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) এক বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই আমন্ত্রণ জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশের হাইকমিশনার।
বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আহ্বান জানান।
এর আগে পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অন্যদিকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণন।
যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রম অভিবাসনে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশ একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত কাঠামোর আওতায় কাজ করবে। এর লক্ষ্য বিদ্যমান নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করা।
এছাড়া মধ্যস্থতাকারীর সংখ্যা কমানো, অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, নির্ভরযোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা ব্যবহারের পাশাপাশি আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, এআই-ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নামিয়ে আনা এবং ‘নিয়োগকর্তাই ব্যয় বহন করবে’—আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
বৈঠকে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান আইনি মামলাসহ বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। মালয়েশিয়া তাদের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে, আর বাংলাদেশ আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে শ্রমবাজারকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়। গঠনমূলক আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বৈঠক আয়োজন ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।







