জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্দশ বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলায় বক্তৃতা করেছেন। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুঃখ-কষ্টের কথা স্মরণ করেন। সেখানে তিনি উদ্বাস্তু জীবনকে নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়েছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমারে জাতিগত নিধন বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। এছাড়া সমস্যা সমাধানে নিজের ভাষণে বিশ্বনেতাদের পাঁচদফা প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এই প্রস্তাবে মিয়ানমারের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করে সেটা নি:শর্তে বন্ধ করার কথা বলেছেন। অবিলম্বে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটা অনুসন্ধানী দল পাঠানো, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রাখাইনে নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তোলা, সেখান থেকে বিতাড়িত হওয়া শরণার্থীদের নিজ ঘরবাড়িতে ফেরত পাঠানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো নিঃশর্তভাবে পূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এবার তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরু থেকে এই সমস্যার বিষয়ে বিশ্বনেতাদের যে দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সর্বশেষ যে পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন আমরা তাকে স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, জাতিসংঘ যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারকে এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করতে পারে তাহলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু জটিল বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবগুলো মিয়ানমারকে তখনই মানতে বাধ্য করা যাবে, যখন এই বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই এই ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সমর্থন ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে বলে আমরা মনে করি। কেননা এখনও পর্যন্ত যেসব দেশ এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে বলতে গেলে তারা নিজ উদ্যোগে মানবতার খাতিরে এটা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর এই মানবিক বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসে চীন-ভারতসহ অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট না করে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে মিয়ানমারকে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে। মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ স্থান দিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের এই মানবতাকে মিয়ানমার বা অন্য কেউ যাতে দুর্বলতা ভাবতে না পারে তা নিশ্চিত করা জরুরি।







