চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাবির দুই শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার

নিয়ম বহির্ভূতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এছাড়াও ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) এক শিক্ষকের চার বছরের জন্য পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়েছে।

Reneta June

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উম্মে হাবিবা জেসমিন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সালমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং আইইআর’র ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারী পদোন্নতির বিষয়ে সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৯ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১৪ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদিকুল ইসলাম সাগর বলেন, অধ্যাপক উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও অনুমতি না নিয়েই ছুটিতে থাকা এবং ছাড়পত্র না নিয়ে বিদেশে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগ প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নীতিমালা অনুসরণ করে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাদিকুল ইসলাম সাগর আরও বলেন, ‘অধ্যাপক সালমা খাতুনের বিরুদ্ধে সুপার ভাইজার ও ডাক্তারের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে হাইকোর্ট থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটানোর অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া ছাত্রীকে যৌন হয়রানির দায়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর পদোন্নতি আগামী চার বছরের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বছরের ২৫ ও ২৭ জুন দুই ছাত্রী ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে সহকারী অধ্যাপক বিষ্ণু কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্ত্যক্তের অভিযোগ করেন। এরপর ইনস্টিটিউটের পরিচালককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।

২৮ জুন দুই ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় জিডি করেন। কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়। ৩ জুলাই ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কমিটির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।