উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নোবেল ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এবং ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া করিনা মাচাদোকে প্রদেয় অর্থ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ডিফেন্ড ডেমোক্রেসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
উইকিলিকসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জের অভিযোগের উদ্দেশ্য হলো মাচাদোকে নোবেল ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্য এক মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ গ্রহণ থেকে বিরত রাখা। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাচাদো ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনমূলক নীতির প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছেন, যা নোবেল শান্তি পুরস্কারের মূল নীতির পরিপন্থী।
অভিযোগে আলফ্রেড নোবেলের উইলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, শান্তি পুরস্কার কেবল তাদেরই দেওয়ার কথা, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, স্থায়ী সেনাবাহিনীর বিলুপ্তি বা হ্রাস এবং শান্তি কংগ্রেস আয়োজন ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
উইকিলিকসের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারিয়া করিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং তেল ট্যাঙ্কার জব্দের নীতির প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পকে “এই গোলার্ধে স্বাধীনতার একজন রক্ষক” হিসেবে উল্লেখ করেন।
অ্যাসাঞ্জের অভিযোগে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মধ্যে শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, বরং মাদক পাচারের অভিযোগে জাহাজে ধারাবাহিক সামরিক হামলার ঘটনাও রয়েছে, যেগুলোকে অনেক আইন বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।
অভিযোগে অ্যাসাঞ্জ বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলফ্রেড নোবেলের দান যুদ্ধ প্রচারের জন্য ব্যয় করা যাবে না।” তিনি দাবি করেন, মাচাদোর বক্তব্য ও অবস্থান নোবেল ফাউন্ডেশনকে তার প্রতি অর্থ প্রদান বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মাচাদোকে প্রদেয় অর্থ আগ্রাসন, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির ২৫(৩)(গ) ধারার অধীনে সুইডেনের আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়িয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি দেশটিতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব ‘অনুমোদিত তেল ট্যাঙ্কার’-এর ওপর “সম্পূর্ণ অবরোধ” ঘোষণা করেন। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌবহর দ্বারা ঘিরে রয়েছে।
নোবেল ফাউন্ডেশন বা মারিয়া করিনা মাচাদোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।








