মাদক ও অনলাইনে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে চক্র। এরপর এই চক্রের হাতে প্রাণ যায় নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ১৮ বছর বয়সী অটোরিকশা চালক রবিউল ইসলামের।
সম্প্রতি ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রির সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজনের মধ্যে দুইজনসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আর এক আসামী পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন-মো. নাহিদ শেখ, মো. হুমায়ুন, মো. লিটন খান, জুবায়ের হাসান অমি , শাজিদুল ইসলাম হাসিব , রাকিবুল এবং জুয়েল ।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদী জেলার পিবিআই পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
পিবিআই জানায়, আসামিরা অটোরিকশা চালক রবিউলের পরিচিত হওয়ায় প্রথমে তাকে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেন। রবিউলের অটোরিকশাটি ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন হত্যাকারীরা।
পিবিআই পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ২৯ অক্টোবর হত্যার উদ্দেশ্যে রবিউলের অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি করেন আসামিরা। পরে নির্জন স্থানে চাপাতি দিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান। হত্যার পর ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার সন্ধানে পিবিআই কাজ শুরু করে।
হত্যাকাণ্ডের পর রবিউল ইসলামের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি নরসিংদীর পিবিআই গ্রহণ করে। তদন্তকালে ঘটনার কোনো ক্লু না থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে শিবপুর অঞ্চলে চোরাই অটো বাইক/গাড়ি ক্রয়বিক্রয়ে জড়িত রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, অটোরিকশাটি নাহিদের মাধ্যমে বিক্রয়ে সহায়তা করেছেন তিনি। কিন্তু হত্যার বিষয়ে কোনো কথা স্বীকার করেননি। তার দেওয়া তথ্যমতে মো. নাহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাহিদ অটোরিকশাটি বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেন এবং যে গ্যারেজে বেচাকেনা হয়েছিল তা দূর থেকে দেখান। এছাড়া সোর্স শিবপুর কলেজ গেট এলাকায় এধরনের একটি অটোগাড়ি দেখেছেন বলে জানালে পিবিআই তাৎক্ষণিকভাবে ঐ এলাকায় একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অটো চালককে শনাক্ত করে মো. হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যমতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি গ্যারেজ মালিক মো. লিটন খানের গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এনায়েত জানান, গাড়িটি যাতে কেউ চিনতে না পারে তাই রং ও কিছু পার্টস পরিবর্তন করা হয়। গ্যারেজ মালিক মো. লিটন খান অটোরিকশাটি ৩০ হাজার টাকায় কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে আসামি নাহিদকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় যারা নাহিদের কাছে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি নিয়ে এসেছিলেন তাদের নাম জানান। হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ঘটনার পরে গাঢাকা দেন। মামলার তদন্তে তদন্তকারী একাধিক চৌকস টিম নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান করে। অভিযানে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অটোরিকশা ছিনতাই প্রতিরোধে পরামর্শ
ভয়ঙ্কর নেশা থেকে জুয়া, ছিনতাই, হত্যা প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান পুলিশ সুপার মো.এনায়েত হোসেন মান্নান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অটোরিকশা ছিনতাই করে চালককে হত্যা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ছিনতাই ও হত্যা প্রতিরোধে প্রতিটি অটোরিকশার ৩ দিকে গ্রিলের তৈরি গেট নির্মাণ করতে হবে। চালকের পাশে কোনো ধরনের যাত্রী তোলা যাবে না। প্রয়োজনে গাড়িতে জিপিএস ট্রাকার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই সমস্ত গাড়িগুলি রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে।








