একজন মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে বড় আর কিছু নেই।সন্তানের মুখে দু মুঠো খাবার তুলে দিতে প্রয়োজনে নিজের সুখ, নিজের স্বপ্ন,সবকিছুই বিসর্জন দিতে পারেন একজন মা। কিন্তু রেহানার গল্পটা যেন তারও বেশি নির্মম। দুই সন্তানের মাথার ওপর একটি ছাদ নিশ্চিত করতে গিয়ে, নিজের মাথার চুলই বিক্রি করে দিতে হয়েছে তাকে। মাত্র এক হাজার টাকায়।
বাগেরহাটের রামপালের সন্তোষপুর। খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোরকমে দাঁড় করানো এই ঘরটিই ছিল রেহানার সংসার। চার বছরের ছেলে রোহান আর তিন বছরের মেয়ে আলোমতিকে নিয়ে এখানেই বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্তু ঘরে ছিল না টিনের ছাউনি।রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সন্তানদের নিয়ে দিন কাটছিল তার।
রেহানা ও তার দুই সন্তানের একমাত্র আশ্রয়টুকুও ছিল অনিরাপদ। ঘরভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় একসময় সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকবেন সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল এই মায়ের। অভাবের সঙ্গে রেহানার লড়াই নতুন নয়। সংসারে টানাপোড়েনের পাশাপাশি রয়েছে প্রতিবন্ধী বোনের দায়িত্ব। তার ওপর ছোট দুই সন্তান। স্বামীর আয় দিয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানোও সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে ঘরভাড়া দেওয়ার টাকাও জোগাড় করতে পারছিলেন না রেহানা। শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করে পান মাত্র এক হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়েই মেটাতে চেয়েছিলেন ঘরভাড়ার দায়।

