কানাডাভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি)-এর উদ্যোগে “বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাস ও নির্বাচন” শীর্ষক একটি সংসদীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামি রেঞ্জার এবং ব্যারোনেস ভার্মা।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জিসিডিজি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিব মিল্লাত। ক্রিস ব্ল্যাকবার্নের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এস. এম. রেজাউল করিম, কাউন্সিলর পুষ্পিতা দাসগুপ্ত, তৌরুল আহসান, ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, প্রসান্ত পুরকায়স্থ, আব্দুল ওয়াদুদ দারা, দেওয়ান গাউস সুলতান, রাজীব পারভেজ ও ব্যারিস্টার মো. মনিরুল ইসলাম। বক্তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সংলাপ, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য, হাউস অব লর্ডসের সদস্য, নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বব ব্ল্যাকম্যান এমপি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
লর্ড রামি রেঞ্জার বলেন, নাগরিকদের পছন্দের প্রার্থীকে প্রভাবের মাধ্যমে প্রতিহত করা গণতান্ত্রিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এতে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল হয়।
অধ্যাপক ডা. মো. হাবিব মিল্লাত তার প্রবন্ধে অভিযোগ করেন, ১২৪ জন সংসদ সদস্যসহ হাজারো রাজনৈতিক কর্মী দীর্ঘ সময় ধরে বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন এবং তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স একটি কানাডাভিত্তিক নিবন্ধিত অলাভজনক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।








