জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি পাস হয়।
আজ (৭ এপ্রিল) মঙ্গলবার সংসদে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৭ সালে হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর’ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং পর্যটনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। এছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-এর করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জলাভূমি সুরক্ষায় দ্রুত আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন আইনে বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

