ম্যাচের সময় তখন ১০৬ মিনিট। ক্রিস্টিয়ান মেদিনা জালের দেখা পেয়েছিলেন। পরিস্থিতি ছিল আর্জেন্টিনা ও মরক্কোর ম্যাচ ২-২ গোলে ড্রয়ে শেষ হতে চলেছে। এ সময় মরক্কোর সমর্থকরা মাঠে বোতল ছুঁড়তে শুরু করে। গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে খেলা দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
খেলা ফিরলে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। স্টেডিয়াম থেকে দর্শকদের বের করে দেয়ার পর ফাঁকা মাঠে দু-ঘণ্টার বিরতি কাটিয়ে চলা ম্যাচে পরে তিন মিনিটের মতো খেলা চলে। বাকি সময়ে আর গোল না পাওয়ায় আলবিসেলেস্তেদের ২-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।
প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনের আগেই শুরু হওয়া ছেলেদের ফুটবল ইভেন্টে ঘটে যাওয়া এমন কাণ্ডে বেশ রাগান্বিত হাভিয়ের মাশ্চেরানো। জিওফ্রয়-গুইচার্ড স্টেডিয়ামে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে আর্জেন্টিনার কোচ সার্কাস হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মাশ্চেরানোর অভিযোগ, স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে বসে ম্যাচের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসছে, এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ঠিকঠাক জানাতে ব্যর্থ ছিলেন। বলছেন, ‘আমি ব্যাখ্যা করতে পারব না কী ঘটেছে। আমরা ড্রেসিংরুমে প্রায় দেড় ঘণ্টা কাটিয়েছি। তারা আমাদের কখনোই জানায়নি পরে কী হতে চলেছে।’
‘মরক্কোর অধিনায়কসহ কেউ খেলতে চায়নি। আমরা খেলা চালিয়ে যেতে চাইনি এবং ভক্তরা আমাদের দিকে বস্তু ছুঁড়েছে। এটি আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে বড় সার্কাস। জানি না কেনো তারা এক ঘণ্টা পার করেছে এবং ২০ মিনিট রিভিউ পর্যালোচনা করেছে।’
‘মেদিনার গোল অফসাইড হয়ে থাকলে আমাদের যে খেলার গতি ছিল, সেটাই অব্যাহত রাখতে দেয়া প্রয়োজন ছিল। মনে করি না দেড়ঘণ্টা (মূলত দুই ঘণ্টা) পর তিন মিনিট খেলা উচিত।’
আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অবশ্য এসব নিয়ে আর অতিরিক্ত অভিযোগ করতে নারাজ। দলকে ইরাক এবং ইউক্রেনের বিপক্ষে পরের দুই গ্রুপ ম্যাচে মনোনিবেশ করতে বলেছেন।
‘অভিযোগ করে লাভ নেই। আমরা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা পছন্দ করি না। কিন্তু আমাদের পাতা ওল্টাতে হবে। ইতিবাচক বিষয়গুলোর সন্ধান করতে হবে। পরের রাউন্ডে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য যে দুটি জয় দরকার, আমরা তার সন্ধান করব।’








