যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সপ্তাহে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফর করবেন বলে জানিয়েছেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, পাকিস্তনের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাকে তার সহযোগী মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, যা ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ রেখেছে।
তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য প্রধান দেশগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত রোববার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের মধ্যে ২১ ঘণ্টার মুখোমুখি আলোচনার কোনো ফলাফল না থাকা সত্ত্বেও এই আশাবাদ দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন আলোচনা ইউরোপে অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু পরে ফোন করে জানান যে আলোচনা ইসলামাবাদে ফিরে আসার সম্ভাবনাই বেশি। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের চমৎকার কাজ করার প্রশংসা করেন।
মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটির একজন কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন আরও আলোচনার জন্য সম্মত হয়েছে, কিন্তু স্থান, সময় এবং প্রতিনিধিদলের গঠন এখনও নির্ধারিত হয়নি। তিনি জানান, আয়োজক শহর হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালে, ইরানের হরমুজ প্রণালীর গতিরোধ করার জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ নীতি আরোপ করেছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “আমি মনে করি, এমন একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান আলোচনার প্রথম অধিবেশনেই হবে—এমনটা আশা করা অবাস্তব হবে। সুতরাং আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং আলোচনা চলাকালীন যুদ্ধবিরতিও বজায় রাখতে হবে।”
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম মঙ্গলবার জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং তার তুর্কি প্রতিপক্ষ হাকান ফিদান ফোনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা নিয়ে কথা বলেছেন।






