মাত্র ৭ দিনে ২ হাজার ১৩৩ জন পাকিস্তানির পাসপোর্ট বাতিল করেছে দেশটির সরকার। কারণ সরকারি নথি অনুযায়ী এরা সকলেই প্রফেশনাল বেগার বা পেশাদার ভিক্ষুক।
সংবাদ মাধ্যম দ্যা ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের বড় শহরগুলোর অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই এই শহরগুলোর ভিক্ষুকদের হাতে। পাকিস্তানের ভিক্ষুকরা কিন্তু শুধু নিজেদের দেশেই ভিক্ষা করে এমন নয়। তারা সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভিক্ষা করতে অভ্যস্ত। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই ট্রেন্ড চলছে।
গত বছরই সৌদি আরব সাফ জানিয়ে দিয়েছিল হজযাত্রার নামে পাকিস্তান তাদের দেশে যেন ভিক্ষুক না পাঠায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়ে দিয়েছিল নির্মাণ শ্রমিকের বেশে পাকিস্তান থেকে দলে দলে ভিক্ষুক তাদের দেশে আসছে। প্রবল সমালোচনার মুখে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংসদীয় কমিটি তৈরি করে পাক প্রশাসন।
কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের একটি সংবাদপত্র ‘দ্য ডন’-এ একটা বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। ভিখিরি হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য চাকরির বিজ্ঞাপন। বেতন মাসে ১২ হাজার টাকা। টার্গেট ফুলফিল করলে ইনসেনটিভের ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে সেই বিজ্ঞাপনে। ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
এই বিজ্ঞাপন বেরনোর পরের দিনই সেটা নিয়েই বড়সড় প্রতিবেদন ছেপেছে ওই পত্রিকা। সেই প্রতিবেদনে দাবি, পাকিস্তানে যাঁরা প্রথমবার চাকরির বাজারে নামছেন, তাঁদের বড় অংশের কাছেই পেশা হিসাবে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেওয়া ছাড়া কার্যত কোন উপায় নেই। তাই লক্ষ লক্ষ যুবক এমনকি যুবতীরাও ‘বেগারস সিন্ডিকেট’-এ নাম লেখাচ্ছেন।
নতুন ভিক্ষা করতে নামা একজন যুবক বা বৃদ্ধ হেসেখেলে ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। আবার মহিলা বা অসুস্থ হলে সেই রোজগারের পরিমাণ নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যায়। পাকিস্তানে চট করে কোন চাকরিতে এত টাকা রোজগার করা কঠিন।







