এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
একদিন পরই ভারত-শ্রীলঙ্কায় গড়াচ্ছে ছেলেদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ, বদলি দলও নিয়েছে আইসিসি। সে ইস্যুতে বাংলাদেশ পাশে পেয়েছে পাকিস্তানকে। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ বর্জন করেছে পিসিবি। যেটি গড়ানোর কথা কলম্বোতে। তাই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠিতে ম্যাচটি খেলার আহ্বান জানিয়েছে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট।
এসএলসির সভাপতি শামনি সিলভা বৃহস্পতিবার পিসিবিকে চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন, পাকিস্তান যেন ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে ভারতের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। যদিও পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে কিছু জানায়নি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বুধবার ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, আইসিসি গতমাসে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করছে তার দেশ।
শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন, পিসিবিকে পাঠানো এসএলসির চিঠিতে ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে শ্রীলঙ্কার গভীর আগ্রহের কথা উল্লেখ আছে। ম্যাচটির জন্য সবধরনের বাণিজ্যিক, পরিচালনাগত, লজিস্টিক, আতিথেয়তা, পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। টিকিটের বিপুল চাহিদার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা অভূতপূর্ব, জনস্বার্থ এবং উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক প্রত্যাশার প্রতিফলন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা পিসিবিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ম্যাচে অংশ না নিলে দেশটির জন্য ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এরমধ্যে প্রত্যাশিত পর্যটন আয় হারানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার কারণে কলম্বোতে ইতিমধ্যে একাধিক হোটেল বুকিং বাতিল হয়েছে। এ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, এমন প্রত্যাশায় হোটেলগুলো প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু বুকিং বাতিল হওয়ায় বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে হোটেলগুলোর কক্ষ দখলের পূর্বাভাসে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রতিবেদনে আছে, চিঠিতে এসএলসি অতীতের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি সত্ত্বেও একাধিকবার শ্রীলঙ্কার পাকিস্তান সফরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ উদাহরণটি আসে গত বছরের নভেম্বর মাসে, যখন শ্রীলঙ্কা দল পাকিস্তানে সাদা বলের সিরিজ খেলতে গিয়েছিল। সেসময় ইসলামাবাদের একটি বিচারালয় চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাটি লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের বাইরে শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার প্রায় ১৬ বছর পর ঘটেছে।








