পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তানসহ একাধিক শক্তিধর দেশ বর্তমানে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে, তাই যুক্তরাষ্ট্রেরও নিজস্ব সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা শুরু করা জরুরি।
আজ (৩ নভেম্বর) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া পরীক্ষা চালাচ্ছে, চীনও করছে, কিন্তু তারা এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে না। আমরা উন্মুক্ত সমাজ—আমরা কথা বলি, কারণ আমাদের গণমাধ্যম আছে যারা এসব নিয়ে রিপোর্ট করবে। অন্যরা নীরবে পরীক্ষা চালায়।
তিনি আরও বলেন, নর্থ কোরিয়া, পাকিস্তান—তারা সবাই পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করছে। আমরা জানি না তারা কোথায় করছে, তবে নিশ্চিতভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। তারা ভূগর্ভে এমনভাবে পরীক্ষা চালায়, যাতে বাইরের কেউ টের না পায়, শুধু সামান্য কম্পন অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রও তাই নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষা চালাবে।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া সম্প্রতি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র পরিবহনে সক্ষম অস্ত্র, যেমন পোসেইডন আন্ডারওয়াটার ড্রোনের পরীক্ষা ঘোষণা করেছে। নর্থ কোরিয়া তো নিয়মিতই করছে। সুতরাং, আমি চাই না যে, যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র দেশ হিসেবে পরীক্ষাহীন অবস্থায় থাকুক। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করে। আমাদের কাছে পৃথিবীকে ১৫০ বার ধ্বংস করার মতো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট স্পষ্ট করেছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরীক্ষাগুলোতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, এখন যে পরীক্ষার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো সিস্টেম টেস্ট—অর্থাৎ ‘নন-ক্রিটিকাল এক্সপ্লোশন’। এগুলো পারমাণবিক বিস্ফোরণ নয়, বরং অস্ত্রের অন্যান্য অংশের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য।
রাইট আরও বলেন, এই পরীক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক অস্ত্রগুলোকে আরও নির্ভরযোগ্য করা এবং পুরনোগুলোর তুলনায় উন্নত প্রযুক্তি নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ পূর্ণমাত্রার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগকে অনেক বিশ্লেষক বৈশ্বিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাব্য সূচনা বলে মনে করছেন।







