পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩। ইতোমধ্যেই জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্যার তাণ্ডব যেভাবে ক্রমাগত বাড়ছে তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের জোট সরকার।
অর্থনৈতিক সংকটে হিমশিম খাচ্ছে পাকিস্তান। তারওপর ভয়াবহ বন্যা যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। সরকারের উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তহবিল সরিয়ে এনে ত্রাণের কাজে লাগাতে হচ্ছে। হাত পাততে হচ্ছে বিদেশি দাতাদের কাছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং সংযুক্ত আমিরাত সহ আরো কিছু দেশ এরই মধ্যে সাহায্য পাঠিয়েছে, কিন্তু তা দিয়ে সরকার সামাল দেয়া যাচ্ছে না বন্যা পরিস্থিতি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষ অর্থাৎ জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ বন্যার কবলে পড়েছে। ইতোমধ্যেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিপর্যয় তৈরির হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। বৃষ্টির পানির তোড়ে নদীর পাড় ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর ঘরবাড়ি হয় বিধ্বস্ত হয়েছে না হয় পানির নিচে ডুবে রয়েছে।
প্রদেশের অন্যতম বড় শহর লারকানার কাছে হাজার হাজার কাঁচা বাড়ি বন্যায় ডুবে গেছে। মাইলের পর মাইল এলাকায় পানির ওপরে শুধু গাছের মাথা চোখে পড়ছে।
বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশের অবস্থা খুবই নাজুক। পানিতে তলিয়ে গেছে হেক্টরের পর হেক্টর জমি। আজাদ জম্মু-কাশ্মির গিলগিট-বালতিস্তান থেকেও মৃত্যুর খবর আসছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পুরো চিত্র পেতে আরো সময় লাগবে।
পাকিস্তানে বৃষ্টি নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার যে মাত্রার বৃষ্টি তারা এবার দেখছেন তা একেবারেই ভিন্ন। পাকিস্তান সরকার আবহাওয়ার এই চরভাবাপন্নতার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছে।








