আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বিমান হামলা হয়েছে। দেশটির তালেবান সরকার জানিয়েছে, প্রায় শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। তারা বলেছে, এই হামলার জন্য সরাসরি দায়ী পাকিস্তান। হামলার পর প্রতিবেশীদের উপর ক্ষোভ উগড়ে মুখ খুলেছে আফগান ক্রিকেটারদের অনেকেই, তারা পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থাকে ইসরায়েলের মতো বলছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় কাবুলের হাসপাতালে বোমা হামলা হয়। বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। পাকিস্তান যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে আফগান পেসার নাভিন উল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইসরায়েল ও পাকিস্তানি শাসনকালের মধ্যে কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।’
দেশটির তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী লিখেছেন, ‘কাবুলের একটি হাসপাতালে আশার আলো নিভে গেল। সুস্থ ও নতুন জীবনের আশায় যে সকল তরুণদের এখানে তুলে দিয়েছে তাদের পরিবার, বোমার ছায়ায় তাদের কেড়ে নেয়া হয়েছে আমাদের থেকে। তাদের মা এবং আত্মীয়রা হাসপাতালের দরজার বাইরে একত্রিত হয়েছেন, প্রত্যেকেই সন্তানের নাম ধরে ডেকে খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন। এরা সেই মানুষ, যাদের পরিবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু রমজানের বাইশ রাতে পাকিস্তানের সামরিক শাসনামলে তাদের জীবন শেষ হয়ে গেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
অলরাউন্ডার রশিদ খান লিখেছেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় শত শত বেসামরিক নিহত হওয়ায় আমি গভীরভাবে শোকাহত, এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুল করে; গণবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য বানানো বড় যুদ্ধাপরাধ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নিষ্পাপ মানুষের বহুমূল্য জীবনকে সম্মান না করা হৃদয়বিদারক। এধরনের অপরাধ ভণ্ডামি ও মানুষকে ঘৃণার দিকে নিয়ে যায়।’
‘আমি জাতিসংঘ এবং অন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এই সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডি তদন্ত করতে এবং অপরাধীদের জবাবদিহি করতে। এই কঠিন সময়ে আমার শোকাহত জাতির পাশে আছি এবং এই মহা দুঃখের সময় নিজেকে মানুষের পাশে ভাবছি।’
‘আল্লাহর ওয়াস্তে আহতদের সুস্থতা কামনা করি। এই ক্ষতগুলো সারবে, এবং আমি নিশ্চিত আমরা জাতি হিসেবে আবার জেগে উঠবো। আমাদের ইতিহাস এর সাক্ষী। ইনশাআল্লাহ।’
অলরাউন্ডার আজমতুল্লাহ ওমরজাই লিখেছেন,‘আফগানরা ইতিহাসজুড়ে প্রমাণ করেছে যে তারা শক্তি ও নিপীড়নের কাছে নতি স্বীকার করে না। আমরা আমাদের মাতৃভূমি, আমাদের সম্মান এবং জনগণকে রক্ষা করতে সর্বদা রুখে দাঁড়াবো। কাবুল সর্বদা রুখে দাঁড়াবে। আফগানরা সর্বদা রুখে দাঁড়াবে।’
ব্যাটার ইব্রাহিম জাদরান লিখেছেন, ‘কাবুলে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিছুক্ষণ পর আমরা দেখলাম আগুনের শিখা আকাশের দিকে উঠছে, এই আগুন ছিল সেই হাসপাতালের, যা পাকিস্তানের বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।’
‘রমজানের এই পবিত্র মাসে, যারা সুস্থ হওয়ার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন এবং যারা পরদিন রোজা রাখার নিয়ত করেছিলেন, তারা এখন আর আমাদের মাঝে নেই বা আহত অবস্থায় আছেন। তারা সবাই ছিল নিরীহ ও অসহায় মানুষ। যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেসব পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল এবং আমি তাদের শোকের অংশীদার। আমরা সবাই এই হামলার নিন্দা জানাই এবং একে সব আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করি।’
রহমানুল্লাহ গুরবাজ লিখেছেন, ‘রমজানের সময় আফগানিস্তানে একটি হাসপাতালে বোমা হামলা। এখন আন্তর্জাতিক আইন কোথায়? মানবতা কোথায়? পৃথিবী কথা বলার আগে আর কত নিরপরাধ প্রাণ ঝরতে হবে?’
গুলবাদিন নাইব লিখেছেন, ‘কাবুল ও নাঙ্গারহার প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর পরিচালিত বিমান হামলার ফলে বহু নিরপরাধ দেশবাসী ও বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, এই ঘটনার তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা, যেকোনো নাম বা অযুহাতেই হোক না কেন, মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধপূর্ণ। এধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সহিংসতাকে দীর্ঘায়িত করে না, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।’








