আজ পহেলা বৈশাখ। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষ বরণ করে নিচ্ছে বাংলা ১৪৩০ বঙ্গাব্দ। পুরানো সব জঞ্জালকে ধুয়ে মুছে ফেলে নতুন বছরে ভালো কিছু করার প্রত্যয়ে বরণ করা হচ্ছে বাংলা নতুন বছরকে। বর্ষবরণ উপলক্ষে জেলায় জেলায় নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানের মধ্য রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, ছবি আঁকা, বৈশাখী মেলা, লোকজ মেলা ইত্যাদি।
চ্যানেল আই প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে জেলায় জেলায় বর্ষবরণ পালনের খবর তুলে ধরা হলো।
যশোর:
মঙ্গল শোভাযাত্রা, সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে যশোরে বঙ্গাব্দ ১৪৩০ বরণ করে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় যশোর মুসলিম একাডেমি স্কুল প্রাঙ্গনে নজরুল সঙ্গীত দিয়ে সূচনা করে পুণশ্চ যশোর। সকাল ৭.১ মিনিটে যশোর পৌর পার্কে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে শুরু হয় বৈশাখি বন্দনা। অনুষ্ঠানে কবিগান, পালাগান, পঞ্চকবির গান, আধুনিক গান, লোকসঙ্গীত, লোকনৃত্য, বাউল গান পরিবেশন করে সংগঠনের দুইশ কর্মী। এছাড়া তির্যক আব্দুর রাজ্জাক কলেজ মাঠে ও সুরবিতান টাউন হল ময়দানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর বাইরে জেলার ৩০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে বর্ষবরণ পর্ষদের ব্যানারে যশোর টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে যশোর টাউন হল মাঠ থেকে সম্মিলিতভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। যশোর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌর মেয়রসহ বিভিন্ন রাজনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় বড় বড় পুতুলসহ বিভিন্ন মুখোশ ও গরু গাড়িসহ গ্রামবাংলার চিরায়ত বিভিন্ন সামগ্রী বহন করা হয়।
খুলনা:
বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ উদযাপন উপলক্ষ্যে বণার্ঢ্য র্যালী ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা প্রসাশনের উদ্যোগে খুলনা রেল ষ্টেশন থেকে র্যালিটি বের হয়ে নগরির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিল্পকলা এসে শেষ হয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রাধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। খুলনা জেলা প্রসাশক ইয়াছির আরাফাত, পুলিশ সুপার মাহাবুব আলমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাক্তিবর্গরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অদম্য বাংলা চত্বরে বর্ষ-আবাহন এবং সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
বরিশাল:
‘ব্যর্থ প্রানের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো’ স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বরিশালে বের করা হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। সকালে বরিশাল নগরীর সিটি কলেজ ও বরিশাল বিএম স্কুল চত্বর থেকে পৃথক ভাবে শোভাযাত্রা বের করে উদীচী শিল্পগোষ্ঠি ও চারুকলা শিল্পগোষ্ঠী। র্যালিটি নগরীর সদর রোড়সহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে বিএম স্কুল মাঠ ও সিটি কলেজে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সংগঠনসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ অংশ নেন।
গাজীপুর:
উৎসবমুখর পরিবেশে গাজীপুরে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ পালিত হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে বর্নাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।এতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা-ইলিশের আয়োজন করে।
ময়মনসিংহ:
প্রতিবছরের ন্যায় বিভাগীয় জেলা ময়মনসিংহে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে নগরীর স্টেশন রোড মোড় থেকে জেলা প্রশাসন ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে বনার্ঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি। শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের গরু, মহিষ ও ঘোড়া গাড়ী, পালকি, বর-কণে, কুঁড়ে ঘর, লাঠি খেলা, বাবুই পাখির বাসা, পশু-পাখির দল, জেলের দল, সাপুড়ে, কুলা, লাঙ্গল-জোয়াল, পলো, ঢেঁকিসহ গ্রাম বাংলার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে জয়নুল আবদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।
বিভাগীয়-জেলা প্রশাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ বর্ণিল সাজে অংশ নেয়। পরে ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী জয়নুল পার্কের বৈশাখী মঞ্চে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
চাঁদপুর:
চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। সকালে স্থানীয় সরকারি হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডাকাতিয়ার পাড়ে অনুষ্ঠানস্থলে শেষ হয়। শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওযারী দুলাল, প্রেস ক্লাবের সভাপতি এইচ এম আহসান উল্লাহসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন।
বগুড়া:
‘নতুন দিনের নতুন আলোয় নতুন জীবন গড়ি; জরাজীর্ণ সাম্প্রদায়িকতা ভুলে সম্প্রীতির হাত ধরি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বগুড়ায় পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বটতলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও আবাহন ‘এসো হে বৈশাখ’ এর মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ উদযাপন সূচনা করা হয়। পরে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের বটতলা থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সাতমাথা হয়ে থানা মোড় হয়ে শহীদ খোকন পার্কে এসে শেষ হয়। এখানে দুইদিন ব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র ছাত্রী বৈশাখী নানা সাজে এবং নানা অনুসঙ্গ নিয়ে শোভা যাত্রা অংশ গ্রহন করে। উৎসব মুখর পরিবেশে বগুড়া বৈশাখী উদযাপিত হচ্ছে। উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বৈশাখ উদযাপন করছে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩০ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০ টার সময় বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপির নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমী মোড় থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, সুপার রাফিউল আলম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুস সালাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট পল্লব ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লিংকন বিশ্বাসসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ:
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে নানা কর্মসূচি পালন করেছে খেলাঘর আসর, চারুকলা ইনস্টিটিউট ও সাংস্কৃতিক জোট। সকাল আটটায় নগরীর দেওভোগ এলাকায় শেখ রাসেল নগর পার্কে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খেলাঘর আসর জেলা শাখা। দশটায় নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট ও সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে শেখ রাসেল নগর পার্ক থেকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে শোভাত্রাটি নগরীর দুই নম্বর রেল গেইট ও ডিআইটি চত্বর ঘুরে পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

নরসিংদী :
বাংলা নতুন বর্ষকে বরণ করে নিতে নরসিংদীবাসী মেতে উঠেছে উৎসব আর আনন্দ আয়োজনে। সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নরসিংদীর মোসলেহ উদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়াম থেকে বার্ণাঢ্য এক মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে পলাশতলায় অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম-বাংলার আবহমান নানা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান, পুলিশ সুপার কাজী আশরাফল আজীম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি. এম তালেব হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালিব পাঠান প্রমুখ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ পালিত হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির অনুষঙ্গ বর্ষবরণ উদযাপনে শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের লোকনাথ টেংকের পাড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গলশোভাযাত্রা বের হয়। ঢাক-ঢোলের তালে তালে লাঠিখেলা প্রদর্শনের মাধ্যমে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় ফারুকী পার্ক চত্বরে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে জাতীয় সঙ্গীত শেষে স্থানীয় শিল্পীবৃন্দের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য র,আ,ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার, পুলিশ সুপার মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মাগুরা:
মাগুরায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ পালিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৮ টায় মাগুরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নোমানী ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় সরকারি-বেসরকরি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি ও মহিষের গাড়ি নানা সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ গ্রহন করে।
পরে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে জেলা শিল্পকলা, উদীচীসহ শহরের নানা সংগঠন জাতীয় সংগীত, বৈশাখী গান, নৃত্য, লোকজ সংগীতে অংশ নেয়। এছাড়া বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শহরের নোমানী ময়দানে ৩দিন দিন ব্যাপী লোকজ মেলা শুরু হচ্ছে। এ মেলায় ১০টি স্টল অংশ নিচ্ছে। মেলায় নকশীকাঁথা, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, কুটির শিল্প, নানা বয়সী মানুষের জন্য পোশাক অন্যান্য উপকরণ প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
ফেনী:
বাংলা নববর্ষ ১৪৩০ উদযাপন উপলক্ষে ফেনী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে। সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হাসান। এ ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩০ বঙ্গাব্দ উৎযাপিত হয়েছে। সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সূর্বণ অহংকার বটতলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রচনা প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।
ঠাকুরগাঁও:
উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁওয়ে উদযাপিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা অগ্নিগ্লানে শুচি হোক ধরা’ এই স্লোগানে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্টেশন ক্লাবে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুবুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জবেদ আলী প্রমুখ ।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, আ’লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষজন অংশ নেন। একই সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গরু, মহিষের গাড়ি ও ছোট বড় সকলের বিভিন্ন বাঙালি সাজের মাধ্যমে শোভাযাত্রাটি ছিল চোখে পড়ার মত। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। শেষে একটি মনোজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

নাটোর:
নাটোরে বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ শুক্রবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে শহরের মহারাজা জগদীন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক আবু নাসের ভুঁঞা ও পুলিশ সুপার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে অংশ নেয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাটোর রাণী ভবানী রাজবাড়ী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মুক্তমঞ্চে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ ছাড়া একই স্থানে আয়োজন করা হয় ৪ দিনব্যাপী গ্রামীন মেলা। মেলায় রয়েছে ১২ টি ষ্টল। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা।
রাঙ্গামাটি:
বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি। এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
নওগাঁ:
নওগাঁয় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৯টায় জেলা স্কুল মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে এসে শেষ হয়। জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান মঙ্গল শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী- শিক্ষক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীতে বাংলা নববর্ষ বরণে বর্নাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোঃ শরিফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিসি স্কোয়ারে আয়োজন করা হয়েছে ৫ দিনের দিবা লোকজ মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। বাংলা ১৪৩০ সালকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসুচি পালন করছে।সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খানের নেতৃত্ব স্থানীয় চাঁদমারি মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে এসে শেষ হয়। পরে কলেজ ক্যাম্পাসে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
নড়াইল:
‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’ কবিগুরুর এ পংক্তিকে সামনে রেখে নড়াইলে নানা আয়োজনে চলছে বর্ষবরণ। উৎসবমূখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩০। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও নববর্ষ উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে শুক্রবার সকালে সুলতান মঞ্চে প্রভাতী সংগীত ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে দিবসের শুভসূচনা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ফকরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম, জেলা কালচারাল কর্মকর্তা মোঃ হামিদুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নড়াইলের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।







