৭৬ বছর বয়সে মারা গেছেন বিশ্বখ্যাত হেভি মেটাল গায়ক ওজি অসবার্ন। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্ব সংগীতে শোকের মাতম! ‘ব্ল্যাক সাবাথ’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি শুধু সংগীতেই নয়, টেলিভিশন, ব্যবসা ও বই রচনার ক্ষেত্রেও সফলতা অর্জন করেছিলেন।
তার রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণই প্রমাণ করে, বিনোদন জগতে তিনি কতটা প্রভাব বিস্তার করেছেন।
মৃত্যুর সময় ওজি অসবার্নের মোট সম্পদ ২২ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২,৫৯৬ কোটি টাকা), যা প্রকাশ করেছে সেলেব্রিটি নেট ওর্থ!
এই বিপুল সম্পদের মধ্যে রয়েছে তার স্ত্রী ও ব্যবস্থাপক শ্যারন অসবার্নের সঙ্গে যৌথ উপার্জনও। সংগীত, রিয়েলিটি শো, বই, লাইভ কনসার্টসহ নানা মাধ্যমে দুজনে মিলে এই সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন।
১৯৭০-এর দশকে ‘ব্ল্যাক সাবাথ’-এর প্রধান ভোকাল হিসেবে ওজি সংগীত জগতে বিপ্লব ঘটান। পরবর্তীতে একক ক্যারিয়ারেও তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
তার সম্পদের বড় অংশ এসেছে অ্যালবাম বিক্রি, কনসার্ট, জনপ্রিয় ওজফেস্ট উৎসব এবং পারিবারিক রিয়েলিটি টিভি শো থেকে। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন কণ্ঠশিল্পী, লেখক এবং টেলিভিশন প্রযোজকও।
শেষের দিকে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও তিনি বিনোদন অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি ইংল্যান্ডে ব্ল্যাক সাবাথের সঙ্গে তার শেষ লাইভ শো করেন— যেটি ছিল ভক্তদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন মুহূর্ত।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ওজি অসবার্ন সাতবার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন— এর মধ্যে পাঁচটি একক শিল্পী হিসেবে এবং দুইটি ‘ব্ল্যাক সাবাথ’ এর সঙ্গে। তার মঞ্চে বাদুড়ের মাথা কামড়ে ধরা কুখ্যাত ঘটনা কিংবা ১৯৯৭ সালে কলম্বাসে ওজফেস্টে তার অনুপস্থিতিতে ভক্তদের বিক্ষোভ— সবই তাকে ঘিরে গড়ে তুলেছে এক কিংবদন্তীর আবহ।
ওজি অসবার্ন রেখে গেছেন স্ত্রী শ্যারন, মেয়ে অ্যাইমি ও কেলি, এবং ছেলে লুইস ও জ্যাককে। শুধু একজন সংগীতশিল্পী হিসেবেই নয়, একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন পরিচিত।
তার মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান হলেও, ব্ল্যাক সাবাথ এবং একক সংগীতজীবনের মধ্য দিয়ে ওজি অসবার্ন চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন বিশ্ব সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে- এমনটাই মনে করছেন সহশিল্পীরা। এআরওয়াই নিউজ







