আন্তর্জাতিক

অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ইসরায়েলকে ‘অ্যাপারথেইড রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেছে

ইসরায়েলি সেনা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় অবস্থান করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও ধ্বংসস্তূপের মাঝে ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে, যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধকে ‘হলোকাস্ট’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে এক ইসরায়েল পক্ষের বক্তাকে ফিলিস্তিনি ছাত্রকে হয়রানির জন্য বের করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এক ঐতিহাসিক বিতর্কে ইসরায়েলকে ‘জেনোসাইডের জন্য দায়ী একটি অ্যাপারথেইড রাষ্ট্র’ (জাতিগত বৈষম্যমূলক আচরণ) হিসেবে ঘোষণা করেছে।

প্রস্তাবটি ২৭৮-৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। অ্যাপারথেইড একটি দক্ষিণ আফ্রিকান শব্দ, যার অর্থ ‘আলাদা রাখা’। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বর্ণ, ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে আলাদা করে বৈষম্যের শিকার করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনে এটি ব্যবহৃত হলেও, ইসরায়েল একই ধরনের নীতি ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৩৩০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৪ হাজার ৯৩৩ জন। এই বিপুল প্রাণহানির কারণে আন্তর্জাতিক মহল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অ্যাপারথেইড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

বিতর্কে ইসরায়েল পক্ষের বক্তা ইউসেফ হাদ্দাদ বিতর্কিত মন্তব্য করেন এবং ফিলিস্তিনি ছাত্রদের সাথে উত্তেজনাপূর্ণ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে, তিনি ফিলিস্তিনি এক ছাত্রকে অপমান করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে বিতর্ক কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, ‘আমি ইসরায়েলি বন্দিদের অপমান মেনে নিতে পারিনি।’

গাজায় জন্ম নেওয়া এক ফিলিস্তিনি ছাত্র এবং ফিলিস্তিনি এক নারী বক্তা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এক নারী তার পরিবারের সদস্যদের হারানোর করুণ কাহিনী বলেন, যা শ্রোতাদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলে এবং তারা করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।

ইউনিয়নের সভাপতি ইব্রাহিম ওসমান-মোয়াফি সভাপতির আসন ছেড়ে প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। তিনি ১৯ বছর বয়সী শাবান আল-দালৌমের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন, যিনি গাজার আল-আকসা হাসপাতালের ওপর ইসরায়েলি হামলায় জীবন্ত পুড়ে মারা যান। তিনি এই ঘটনাকে ‘গাজার হলোকাস্ট’ বলে আখ্যা দেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তারা গাজা এবং ইসরায়েল নিয়ে উত্তপ্ত বক্তব্য দেন। মোসাব হাসান ইউসেফ দাবি করেন, ‘ফিলিস্তিনিরা অস্তিত্বহীন’ এবং ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন মুসলিমদের দ্বারা দখল করা হয়েছে।’ তার এই মন্তব্য শ্রোতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

এই বিতর্ক এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন অক্সফোর্ডের অল সোলস কলেজের বিরুদ্ধে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি এবং ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনার এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে এটি দেখা হচ্ছে।

বিষয়:অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইসরায়েল গাজা যুদ্ধ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…