জাহেলিয়া যুগে আরবে কন্যা শিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার রেওয়াজ ছিলো। একজন পিতা তার কন্যাকে জীবন্ত কবর দিত। দাস প্রথারও রেওয়াজ ছিলো। সুদ, শরাব, জুয়া, খুন-খারাবি নাহয় আলোচনার বিষয় বস্তু হিসেবে বাদই দিলাম। কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া আর দাস-দাসী কেনা বেচার মত জঘন্য, ঘৃণ্য কাজগুলো তারা নির্বিচারে করে বেড়াত।
বিচারের দাবি নিয়ে পথে নামার কিংবা প্রতিবাদের ঝড় উঠত না। যেন এমনটাই ছিল তাদের প্রথা। কিন্ত আমাদের এই স্বাধীন দেশে প্রতিটা অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়। দেশের সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নেমে অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। আমাদের এই পবিত্র মাতৃভূমিতে, যে মাতৃভূমি কোনো ছিনিয়ে আনা সাম্রাজ্য নয়, অনেক রক্ত আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জন করা আমাদের এই পবিত্র ভূমি অথচ এখানে নির্বিঘ্নে অপরাধীরা বিচরণ করছে।
মায়ের গর্ভে কোনো শিশু অপরাধী হয়ে জন্ম নেয় না। বৃটেনে আইনের চেয়ে প্রথার গুরুত্ব বেশি। অর্থাৎ আইনের শাসন থাকলেও কার্যকারিতার প্রয়োজন তেমন নেই। অতদূর না যেয়ে আমরা একই মহাদেশে বসবাসরত জাপানের কথা ভাবতে পারি। সেখানে চতুর্থ শেণির আগে কোনো পরীক্ষা নেই। বিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন, শৃঙ্খলা এবং কাজের প্রতি আন্তরিক ও শ্রদ্ধাবোধ শিক্ষা দেওয়া শুরু করে ছোটো শিশুদের। সেখান থেকেই শিশুরা কর্মঠ, সৎ আর কর্তব্যপরায়ণ হয়ে উঠে।
একটা বিষয় আমরা ভালোভাবে রপ্ত করেতে শিখেছি তা হলো অপরাধীর মা-বাবাকে এবং সরকারকে দোষারোপ করা। হ্যাঁ উভয়েরই পৃথক পৃথক দায়িত্ব আছে। তবে পরিবারের পরেই শিশুর নিরাপদ স্থান বিদ্যালয়। শিশুকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয় শিক্ষা অর্জনের জন্য। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু আমাদের জাতীয় মেরুদণ্ডই তো সোজা না। জাতি আজ পঙ্গুত্ব বরণ করে আছে। এই পঙ্গুত্ব থেকে বের হয়ে আসতে হলে সবকিছুর আগে শিক্ষক তৈরি করতে হবে। বসার ঘরে বা বারান্দায় বসে ঐটুকু স্থানকে কোচিং সেন্টার নাম দিয়ে গাইড বই মুখস্থ করানোর বাণিজ্য বন্ধ হওয়া খুব জরুরি। ছোট ছোট কিন্ডারগার্টেন এবং মালিকানা স্কুলের শিক্ষার নামে বাণিজ্য বন্ধ হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এইসব স্কুলের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক যেখানে সঠিক পাঠদান হয়। সরকার যদি শিক্ষার নামে কুশিক্ষার কারখানা গুলো বন্ধ করে দেয় তবে পরবর্তীতে দেশের অপরাধ অনেকাংশে কমে যেতে পারে। তখন আর রামিসা, আছিয়া বা অগণিত ফুলের মত ফুটফুটে শিশুরা নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হবে না। শরীর খাটের নিচে আর মাথা বালতিতে থাকবে না।
বিভিন্ন শ্রণি-পেশার মানুষ রামিসা হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথসহ ২১ জন বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। ১৯ মে বেলা ১১ টায় পল্লবীর একটি ভবন থেকে রামিসার খন্ডিত দেহ উদ্ধার করা হয়। আমি দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন শিক্ষক হিসেবে ও একজন নারী হিসেবে সরকারের নিকট দাবি জানাই এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হউক। “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি…”।








