কানাডার একটি স্কুলে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় গুরুতর আহত এক শিশুর পরিবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ওপেনএআই’-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগেই ধারণা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সী মায়া গেবেলা গত ১০ ফেব্রুয়ারি কানাডার প্রত্যন্ত জনপদ টাম্বলার রাইড এলাকায় এক স্কুলে বন্দুক হামলায় মাথায় ও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই হামলায় মোট আটজন নিহত হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু এবং হামলাকারীর মা-ও ছিলেন। ঘটনাটি কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ স্কুল গুলিবর্ষণের ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, হামলার সন্দেহভাজন জেসি ভ্যান রুটসেলার (১৮) ২০২৫ সালের জুন মাসে চ্যাটজিপিটি-তে তার কথোপকথন ‘ওপেনএআই’ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে তার একটি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধও করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, তখন কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়নি।
মামলায় আরও বলা হয়, ওই ব্যক্তি কয়েক দিন ধরে চ্যাটবটের সঙ্গে বন্দুক হামলার বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছিল এবং চ্যাটজিপিটিকে ‘বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা’ হিসেবে দেখত।
মামলার দাবি, ওপেনএআইয়ের ১২ জন কর্মী ওই কথোপকথনগুলোকে অন্যদের জন্য গুরুতর ক্ষতির সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর সুপারিশ করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সুপারিশ শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি এবং কেবল ওই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করেই দায় শেষ করা হয়।
পরবর্তীতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আরেকটি নতুন চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট খুলে আবারও বন্দুক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ওপেনএআই’র প্রতিক্রিয়া
ঘটনাকে ‘অকথ্য ট্র্যাজেডি’ উল্লেখ করে ওপেনএআই বলেছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে তারা নতুন নীতিমালা ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি কানাডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইভান সলোমন এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি-এর সঙ্গে বৈঠক করে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ সম্পর্কে পুলিশকে দ্রুত অবহিত করার প্রক্রিয়া জোরদারের আশ্বাস দিয়েছেন।
ওপেনএআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নীতিমালার পরিবর্তন অনুযায়ী এমন ধরনের সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হতে পারে।
প্রসঙ্গত; কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় জেসি ভ্যান রুটসেলার নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ওই তরুণী স্কুলে হামলার আগে নিজ বাড়িতে তার মা ও সৎভাইকে গুলি করে হত্যা করেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় হামলাকারীসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার স্থানীয় পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদ টাম্বলার রাইড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ১৮ বছর বয়সী জেসি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে একাধিকবার তাকে চিকিৎসার জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, বাড়িতে মা ও ভাইকে হত্যার পর জেসি তার সাবেক স্কুলে গিয়ে হামলা চালান। সেখানে একজন নারী শিক্ষক এবং ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী পাঁচ শিক্ষার্থী তাঁর গুলিতে প্রাণ হারায়। হামলা শেষে জেসি নিজেও আত্মহত্যা করেন।
এই নৃশংস ঘটনায় পুরো কানাডায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার পূর্বনির্ধারিত ইউরোপ সফর স্থগিত করেছেন এবং নিহতদের স্মরণে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘টাম্বলার রিজের এই ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আমরা এই শোক কাটিয়ে উঠব এবং এ থেকে শিক্ষা নেব।’








