মার্কিন সংবিধানে ২২তম সংশোধনীর মাধ্যমে কাউকে দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট পদলাভের পথ বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই সংশোধনীর আগে এমন একজন প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, যিনি শুধুমাত্র দুইবার নয়, চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বুধবার (২ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের চারবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের চারবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পিছনে মূলত দুইটি কারণ রয়েছে। যার প্রথমটি হচ্ছে মার্কিন ঐতিহ্য এবং অন্যটি হচ্ছে সাংবিধানিক আইন।
প্রথমত, মার্কিন ঐতিহ্য: ১৯৪০ সালে রুজভেল্টের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার আগে মার্কিনদের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য ছিল যে প্রেসিডেন্টরা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
আর এই ঐতিহ্য জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন এবং জেমস ম্যাডিসনের মতো প্রাথমিক প্রেসিডেন্টদের তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ঐতিহ্য পরবর্তীতে অন্যান্য প্রেসিডেন্টও গ্রহণ করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক আইন: ১৯৪৫ সালে রুজভেল্ট তার চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীন মারা যাওয়ার পর কংগ্রেস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যকে সাংবিধানিক আইনের অংশে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রেসিডেন্টরা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এটি ১৯৫১ সালে মার্কিন সংবিধানের অংশ হয়ে ওঠা। আর এটি ২২তম সংশোধনীর অনুমোদন এবং অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি ‘তামাশা করছেন না’ বলেও জানিয়েছেন।
এরপর থেকে পুনরায় আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। তবে ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলছেন, ট্রাম্পের তৃতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসের গদিতে বসার পথ থাকতে পারে।








