ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে দেশের বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে এবং নতুন মৌসুমের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একদিন আগেও দাম ছিল প্রায় ১৫০ টাকা। দিনাজপুরে দাম আরও কম- প্রতিকেজি ১০০ টাকার আশপাশে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে দাম নেমে এসেছে ৮০-৯০ টাকায়; আগের দিন ছিল ১১০–১২০ টাকা। ফলে খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে, বিক্রি হচ্ছে ১০০–১২০ টাকায়।
গত এক মাস ধরে অস্থির ছিল পেঁয়াজের বাজার। কয়েক দিনের ব্যবধানে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে কেজি ১৫০–১৬০ টাকায় পৌঁছায়। পরে আমদানির সিদ্ধান্তে দাম কিছুটা কমে।
শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে। প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজের অনুমোদন দেওয়া হবে। গত ১ আগস্ট থেকে যেসব আমদানিকারক আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারাই কেবল আবেদন ফের দাখিল করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি শুরু
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তিন মাস পর আবার ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার বিকালে নাসিক জাতের পেঁয়াজবোঝাই তিনটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। এ খবরে স্থানীয় বাজারে খুচরায় এক লাফে কেজিতে ৩০–৩৫ টাকা কমেছে দাম।
হিলির খুচরা ব্যবসায়ী কবির হোসেন বলেন, ‘শনিবার যে পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ তা ১০০ টাকায় দিচ্ছি। মুড়িকাটা পেঁয়াজও ৮৫ টাকায় নামছে।’
হিলি স্থলবন্দর আমদানি–রপ্তানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগস্ট থেকে আবেদন করেও অনুমতি না পাওয়ায় বাজার অস্থির হয়। আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কমছে।’
খাতুনগঞ্জে বড় ধরনের দরপতন
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জেও পাইকারিতে কেজিতে ৩০–৪০ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম। হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘আমদানির অনুমতির ঘোষণা আসার পর দাম কমেছে। আগের তুলনায় সরবরাহও বেড়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশি করে বাজারে এলে দাম আরও কমবে।’
পাবনায়ও দাম কমেছে
পাবনার বড়বাজার, মাসুমবাজার ও লাইব্রেরি বাজারে সোমবার পুরোনো পেঁয়াজ ৯০–১০০ টাকা এবং মুড়িকাটা ৭০–৭৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। শুক্রবার হঠাৎ দাম বেড়ে ১৪০–১৫০ টাকায় ওঠায় ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন।
একজন ক্রেতা জানানএকদিনেই ৩০–৪০ টাকা ওঠানামা- এটা ভোক্তাদের জন্য বড় ধাক্কা। সহনীয় দামে বাজার স্থিতিশীল থাকুক- এটাই চাই।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এবার কৃষকের আবাদব্যয় তুলনামূলক কম পড়েছে। মণপ্রতি ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দর পেলেই তারা লাভবান হবেন। তাই আমদানির সিদ্ধান্তে কৃষকের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি মাথায় রেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








