সরবরাহ কমের অজুহাতে ভরা মৌসুমেও অস্থির পেঁয়াজের বাজার। সপ্তাহ জুড়ে বাজারে নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা থাকলেও রোববার থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মঙ্গলবার এসে খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ‘সেঞ্চুরি’ পার করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি। বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দাম বৃদ্ধির এ চিত্র দেখা গেছে। বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজিতে। যেখানে গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে পণ্যটি কিনতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে শ্রেণির ক্রেতার।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ’র (টিসিবি) তথ্য বলছে: তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ রাজধানীর খুচরা বাজারে ১৫-৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কেজিপ্রতি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা।
গত বছর ৭ ডিসেম্বর ভারত তার দেশে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর দেশের বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। তবে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসার পর সেই দাম কিছুটা কমতে শুরু করে সেই দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখবে।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আকবর আলী বাজারে পেঁয়াজ কিনতে এসে হতবাক। ৪-৫ দিন আগে তিনি পেঁয়াজ কিনেছিলেন ৮০ টাকায় আর আজ তার কাছে বিক্রেতারা প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা চাচ্ছেন। তার অভিযোগ: ২-১ দিনের ব্যবধানে হঠাৎ কিভাবে দাম ২০-২৩ টাকা বেড়ে যায়? বাজার মনিটরিং বলে কি কিছু আছে! যারা অসাধু ব্যবসায়ী তারা হঠাৎ সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে ফেলছে।
দাম বেড়েছে হিলির মতো স্থল বন্দরগুলোতেও। হিলি বাজারের পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রেতা আবু সালেহ পেঁয়াজের দাম বাড়া প্রসঙ্গে বলেন: দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। তাই মোকামেই দাম বেশি। দুই দিন আগে মোকামেই তিন হাজার টাকা মন পেঁয়াজ কিনেছি। এতে মোকামেই ৭৫ টাকা কেজি পড়ছে। এরপর গাড়ি ভাড়া আছে। আমরা কেজিপ্রতি দুই এক টাকা লাভ রেখে বিক্রি করে থাকি। আবার কম দামে কিনতে পারলে কম দামেই বিক্রয় করে থাকি। তবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলে দাম আরো কমে আসতে পারে।
মঙ্গলবার রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে দেখা গেছে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০-১১০ টাকা। যা তিন আগে বিক্রি হয়েছে ৭৫-৮০ টাকা। প্রতিকেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা। যা তিন আগেই ৮৫-৯০ টাকা ছিল। 
এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন: বাজারে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে, তারপরও বাজারে নৈরাজ্য থামছে না। যখন যে পণ্যের দাম কমার কথা তখন সেই পণ্যেরও দাম বেড়ে যাচ্ছে। মুখে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এজন্য অসাধুরা পণ্যের দাম বাড়াতে সাহস পাচ্ছে। আর প্রতারিত হচ্ছে ভোক্তা।
নতুন বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শেষের দিকে। প্রায় দেড় মাস আগে এই পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছিল, এখন কৃষকের সেই পেঁয়াজ শেষের দিকে। আবার বেশি দামের আশার কৃষক অপরিপক্ক পেঁয়াজ জমি থেকে তুলেছেন, ফলে উৎপাদন কম হয়েছে। যার কারণে সরবরাহ কমতে শুরু করেছে।
আবার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এখন কৃষকের মূল পেঁয়াজ যেটা বছর জুড়ে পাওয়া যায় সেই পেঁয়াজ উঠতে কিছুদিন সময় লাগবে। সে পর্যন্ত এমন বাড়তি দাম থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।








