বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশ যথাযথভাবে কাজে লাগানো না গেলে তা ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় বোঝায় পরিণত হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশের প্রতি চারজন যুবকের একজন বেকার। এছাড়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ৪০ শতাংশই শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের (নিট) বাইরে রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) আয়োজনে রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনের মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. তৌহিদুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।
ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির কারণে এ সম্ভাবনাময় জনমিতিক লভ্যাংশ ধীরে ধীরে জনমিতিক বোঝায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার, পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভেট) প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ, বহুভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং অন্তত এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীদের আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নতুন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার সৃষ্টি সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও দক্ষতা উন্নয়নে আরও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি জানান, সরকারের ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কাতার, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর বিএমইটির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এক লাখ ৬৭ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।







