পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন চট্টগ্রামের বাবর আলী। ১১ বছর পর এভারেস্ট শীর্ষে উড়ল বাংলাদেশের পতাকা।
আজ রোববার (১৯ মে) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের বাবর আলী পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করেন। পেশায় ডাক্তার বাবর আলীর পরবর্তী লক্ষ্য পৃথিবীর চতুর্থ সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট লোৎসে।
বাবরের সংগঠন ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের পক্ষ থেকে ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এবং লাখো শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়ায় প্রকৃতি মাতা বাবরকে ক্ষণিকের জন্য স্থান দিয়েছেন নিজের চূড়ায়। খানিক আগে বেসক্যাম্প ম্যানেজার এবং আউটফিট মালিক আমাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এখন বাবর আছে ক্যাম্প-৪ এ নামার পথে। ওই ডেথ জোনে যোগাযোগ সম্ভব নয়। তাই অভিযানের ছবি পেতে সময় লাগবে।
আমরা ভীষণ আনন্দিত। কিন্তু ভুলে গেলে চলবেনা আমাদের মূল লক্ষু কিন্তু শুধু এভারেস্ট নয়, লোৎসেও। তাই দোয়াতে থাকুক বাবর আলী।’
জানা যায়, বন্ধু মহলে পরিচিত পেশায় চিকিৎসক আর নেশায় পাহাড়ি হিসেবে। পর্বতারোহনসহ সবরকম অ্যাডভেঞ্চারের জন্য দেশের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস জগতে সবার প্রিয়মুখ বাবর আলী। পর্বতারোহন ও অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় বহুবার ছেড়েছেন চাকরি। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে হেঁটে ৬৪ জেলা ভ্রমণকারী এই তরুণ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হন ১ এপ্রিল।
এরপর উচ্চতার সাথে খাপ খাওয়াতে ক্যাম্প থ্রি পর্যন্ত ঘুরে এসে চূড়ান্ত সামিটের জন্য প্রকৃতির অনুমোদনের বেইজক্যাম্পে অপেক্ষা। দেড় মাস অপেক্ষার পর ১৪ই মে সাড়া দেয় প্রকৃতি। এদিন মাঝরাতে বেইজক্যাম্প থেকে শুরু হয় বাবরের স্বপ্নের পথে যাত্রা।
প্রথম দিনই সরাসরি উঠে আসেন ক্যাম্প-টু তে, যার উচ্চতা ২১ হাজার ৩শ’ ফুট। পরিকল্পনা অনুসারে সেখানে দু’রাত কাটিয়ে ১৭ মে উঠে আসেন ২৪ হাজার ৫শ’ ফুট উচ্চতার ক্যাম্প-থ্রি তে। আর ১৮ মে আসেন ক্যাম্প-ফোর এ। ২৬ হাজার ফুট উচ্চতার এই ক্যাম্পের ওপরের অংশকে বলা হয় ডেথ জোন। ১৯ মে মাঝরাতে আবারো শুরু হয় যাত্রা। ১৯ মে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে বাবর আলী উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের পতাকা।
তবে অভিযান এখানেই শেষ নয়! বাবরের লক্ষ্য শুধু এভারেস্ট নয়, সাথে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। ক্যাম্প-৪ এ নেমে রোববার মাঝরাতে আবারও শুরু করবেন দ্বিতীয় লক্ষ্যের পথে যাত্রা। সব অনুকূলে থাকলে সোমবার ভোরে পৌঁছে যাবেন এর লোৎসের চূঁড়ায়। সফল হলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বার আলীই হবেন লোৎসে ও একই অভিযানে দু’টি আট হাজার ফুট মিটার উঁচু শৃঙ্গ আরোহনকারী। লক্ষ্য পূরণ হলে বাবর আলী করবেন এই বিপদজনক খেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
নেপালের স্নোয়ি হরাইজন নামক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে বাবরের সাথে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পর্বতারোহন গাইড বীর বাহাদুর তামাং। বাবরের এই অধ্যাবসায় শুরু হয় ১০ বছর আগে। ২০১৪ সালে পর্বতারোহন ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্লাব সতীর্থদের নিয়ে নেপাল এবং ভারতের বহু পর্বতে অভিযান করেছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে তিনি সামিট করেছেন নেপালের আমা দাবলাম পর্বত। পর্বতারোহন তার নেশা হলেও সাইক্লিং, ম্যারাথন, স্কুবা ডাইভিং-এর মতো অ্যাডভঞ্চরেও অংশ নেন নিয়মিত। হেঁটে ঘুরেছেন দেশের ৬৪ জেলা, সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত। বান্দরবান থেকে হিমালয়, সুন্দরবন থেকে দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেছেন তিনি। প্রকৃতির অপার বিস্ময় উপভোগে নেশায় পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূঁড়া থেকে পৃথিবী দেখার স্বপ্ন সার্থক করেছেন এই তরুণ পর্বতারোহী।







