চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনে তেল সরবরাহ শুরু হচ্ছে এপ্রিলেই। বাণিজ্যিক তেল সরবরাহ শুরুর আগে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: ভূগর্ভস্থ এই পাইপলাইনে দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে পরিবহন করা যাবে বছরে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। এতে বার্ষিক সাশ্রয় হবে ২৩৬ কোটি টাকা। পাইপলাইনের নিরাপত্তায় থাকছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় নজরদারি। ১৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের আড়াই শ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনটিতে বছরে পরিবহন করা যাবে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে সুযোগ আছে এ সক্ষমতা ৫৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার। এতে জ্বালানি তেল পরিবহনে সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচবে। কমবে অপচয়, চুরি ও পদ্ধতিগত লোকসানও। বছরে সাশ্রয় করা যাবে ২৩৬ কোটি টাকা। আর তা সম্ভব হলে ১৬ বছরেই ওঠে আসবে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ।
এতোদিন ধরে সাগরপথে জ্বালানি তেল আমদানি করার পর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নৌ, রেল ও সড়ক পথে দেশের নানা প্রান্তের মতো রাজধানী ঢাকাতে আসতো। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি ছিলো সময়সাপেক্ষ এবং পথে চুরির কারণে লোকশান গুণতে হতো বিপিসিকে।
এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়গুলোতে তেল সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতো। শুষ্ক মৌসুমেও ছিলো নৌপথে পরিবহন প্রতিবন্ধকতা।
এমন পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আড়াইশ কিলোমিটার তেল পরিবহন পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০’র ডিসেম্বরে কাজ শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ হলেও পরে দুই ধাপে সময় এবং ব্যয় বাড়ানো হয়।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জানিয়েছেন: মার্চে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। আগামী মাস থেকে শুরু করা যাবে পাইপলাইনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পরিবহন হয়েছে জ্বালানি তেল। এখন ছোট ছোট ট্যাংকারে করে তেল আনতে হয়। যাতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তবে পাইপলাইনটি চালু হলে এসব সমস্যা কেটে যাবে। এতে সময় ও খরচ দুইই বাঁচবে।







