সেঞ্চুরি পূর্ণ করার আগেই দর্শকের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ইডেনের গ্যালারি। ভক্তদের সেই উল্লাসকে পূর্ণতা দিয়েছেন বিরাট কোহলি। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১১৯ বলে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৩৫তম জন্মদিনে। সঙ্গে অনন্য কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন। মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুঁয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার। কিংবদন্তির রেকর্ড গড়ার ম্যাচে প্রোটিয়াদের ৩২৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে ভারত।
৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে কাগিসো রাবাদাকে ডিপ মিড উইকেটে ঠেলে এক রান নেন কোহলি। বিশ্বকাপে জন্মদিনে সেঞ্চুরি পাওয়া তৃতীয় ক্রিকেটার হন তাতে। আর শচীনের সমান ওয়ানডে সর্বোচ্চ ৪৯ সেঞ্চুরি এখন তারও।
রোববার ক্যারিয়ারের ২৭৭তম ইনিংসে মাইলফলকে পৌঁছান ডানহাতি কোহলি। শচীন ৪৫২ ইনিংসে ৪৯ সেঞ্চুরি করে অবসরে গেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোহলির মোট সেঞ্চুরি এখন ৭৯টি, টেস্টে ২৯ ও টি-টুয়েন্টিতে একটি শতক আছে তার।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৬ রানের সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিক দল।
রোহিত শর্মা ও শুভমন গিলের উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত শুরু পায় ভারত। ষষ্ঠ ওভারে দলীয় ৬২ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ২৪ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বাভুমার হাতে ক্যাচ দিয়ে রাবাদার শিকার হন রোহিত।
১১তম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৯৩ রানে দ্বিতীয় ব্যাটারকে হারায় ভারত। ২৪ বলে ২৩ রান করে কেশব মহারাজের শিকার হন গিল। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৪ রান সংগ্রহ করেন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আয়ার। ৩৭তম ওভারের পঞ্চম আয়ার ফিরে যান লুনগি এনগিদির শিকার হয়ে। ৮৭ বলে ৭৭ রান করেন আয়ার।
৪২.১ ওভারে দলীয় ২৪৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় ভারত। ১৭ বলে ৮ রান করে ডুসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে জানসেনের শিকার হন লোকেশ রাহুল। এরপর সূর্যকুমার যাদব ব্যাটে এসে উড়ন্ত শুরুর আভাস দিলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৪৬তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ২৮৫ রানে কুইন্টন ডি ককের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তাবরাইজ শামসির বলে। ১৪ বলে ২২ করে যান সূর্যকুমার।
৪৯তম ওভারে তৃতীয় বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের ৪৯তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কোহলি। ১০ চারে ১১৯ বলে শতরান স্পর্শ করেন। পরে জাদেজাকে নিয়ে ইনিংস শেষ করে আসেন কিংবদন্তি ব্যাটার। ১২১ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন, ১৫ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন জাদেজা।
প্রোটিয়াদের হয়ে একটি করে উইকেট নেন লুনগি এনগিদি, মার্কো জানসেন, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ ও তাবরাইজ শামসি।








