বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার টাইমড-আউট হওয়ার ঘটনায় মন্তব্য করেছিলেন টাইগারদের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। ঘটে যাওয়া বিষয়টি তিনি পছন্দ করেননি বলে জানান একটি গণমাধ্যমকে। দলের আচরণবিধি ভেঙ্গে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ডোনাল্ডের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিসিবি।
বিসিবির একজন কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড পরবর্তী সময়ে তার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারতেন। তিনি টিম ম্যানেজমেন্টের অংশ, তাই দল যখন সিদ্ধান্ত নেয়, প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলা আচরণবিধির লঙ্ঘন। তিনি দলকে এটি সম্পর্কে কথা বলতে পারতেন বা সরাসরি খেলোয়াড়ের সাথে কথা বলতে পারতেন। অথবা বিসিবিকে জানাতে পারতেন। কিন্তু জনসমক্ষে নয়।’
২০২২ সালে সাউথ আফ্রিকা সফরের আগে ডোনাল্ডকে ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বিসিবি। বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত টাইগারদের দায়িত্ব পালন করার চুক্তি রয়েছে তার সঙ্গে।
এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দিল্লিতে টিম হোটেলে ফেরার পর ডোনাল্ড একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। টাইমড-আউট নিয়ে ঘটে যাওয়া বিষয়টি তিনি পছন্দ করেননি বলে জানান।
‘এমন দেখাটা হতাশাজনক ছিল। আমি বুঝতে পারি, সাকিব সুযোগ নিচ্ছে। তার কথা ছিল- আমি জয়ের জন্য সবকিছু করছিলাম। আপনি আমার কথায় বুঝতে পারছেন যে, আমি এ ধরনের কিছু পছন্দ করি না। এটা দেখাটা সত্যিই কঠিন ছিল যে, শ্রীলঙ্কার সর্বকালের সেরাদের একজনকে একটি বলও না খেলে মাঠের বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাকে সময়ের জন্য আউট দেয়া হয়েছিল।’
সাদিরা সামারাবিক্রমা আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন ম্যাথুজ। হেলমেটের ফিতার একপাশ ছিঁড়ে ড্রেসিংরুমের দিকে নতুন হেলমেটের ইঙ্গিত করেন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। সেই সময় টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান টাইমড-আউটের আবেদন জানান মাঠ আম্পায়ারের কাছে। আম্পায়ার নিয়ম মেনে ম্যাথুজকে আউট ঘোষণা করেন।
এ সময় কী করণীয় ছিল, সেটিও বলেছেন ডোনাল্ড। সাবেক প্রোটিয়া পেসারের ভাষ্য, ‘সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতো শুধু এটুকু বলা যে ঠিক আছে, চিন্তার কিছু নেই। আপনার হেলমেটটি দ্রুত আনুন। আপনার কাছে এটি পরিবর্তনের সময় আছে।’
টাইমড আউট নিয়ে মাঠের ভেতর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সময় মাঠে দৌড়ানোর জন্য খানিকটা চিন্তা করেছিলেন ডোনাল্ড। তিনি সাকিবকে তার আবেদন প্রত্যাহার করতে বলার মানসিকতা ধারণ করছিলেন।
‘আমি সত্যিই সেই মাঠে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম এবং বলতে চেয়েছিলাম, যথেষ্ট হয়েছে,আমরা টাইমড আউটের পক্ষে না যাই। আমাদের খেলায় এমন কিছু দেখতে চাই না। আমরা এ ধরনের দল না, যারা এর পক্ষে অবস্থান নেয়।’
ঘটনাগুলো দ্রুত ঘটেছিল। কর্তৃত্বের কথা যদি বলেন তাহলে এটাই বলবো আমি হেড কোচ নই। আমি ইনচার্জ নই। মরিস এরাসমাসকে (বোলিং প্রান্তে থাকা আম্পায়ার] বলতে দেখেছি, অ্যাঞ্জেলো দয়া করে আপনি এখন গ্রাউন্ড থেকে চলে যেতে পারেন। অ্যাঞ্জেলোকে তার হেলমেট তুলতে দেখে এবং তারপরে হেঁটে গিয়ে বিজ্ঞাপন বোর্ডের দিকে তা ছুড়ে ফেলতে দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম।








