আহমেদাবাদে উত্তাপ ছড়াবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ- এমন আশায় নিয়েই ক্রিকেট পাগল দর্শকরা দেখতে বসেছিলেন ম্যাচ। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাবর আজমের দল দিয়েছিল হাই স্কোরিং ম্যাচের পূর্বাভাস। তবে ভারতীয় বোলারদের তাণ্ডবে ৪২.৫ বলে মাত্র ১৯১ রানেই অলআউট হয়েছে পাকিস্তান।
এক পর্যায়ে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৫৫ রান। সেখান থেকে আকস্মিকভাবে ব্যাটিং ধস নামে। মাত্র ৩৬ রান যোগ করতেই শেষ ৮ উইকেট হারায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। খানিক পর ১৯২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামবে টিম ইডিয়া।
শনিবার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের দুই ওপেনারের শুরুতেই চার মারার নেশায় পেয়ে বসে। জাসপ্রীত বুমরাহর করা প্রথম ওভারে আসে চার রান। বাউন্ডারি মারেন আবদুল্লাহ শফিক। পরে মোহাম্মাদ সিরাজের করা দ্বিতীয় ওভারে তিনটি চার মারেন ইমাম উল হক। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলটি সীমানা ছাড়া করেন শফিক। বল হাতে বুমরাহ অবশ্য পঞ্চম ওভারটিতে পান মেডেন। কমতে থাকে রানের গতি।
অষ্টম ওভারে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি। শফিক ২৪ বলে ৩ চারে ২০ রান করে সাজঘরে যান। বল হাতে খরুচে হলেও ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দিলেন মোহাম্মাদ সিরাজ। পাকিস্তানের ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক লেগ বিফোরে কাটা পড়ে ড্রেসিং রুমে ফিরেছেন।
ব্যাট হাতে ছন্দেই ছিলেন ইমাম উল হক। ভারতীয় বোলারদের সামলে তুলছিলেন রান। ইনিংসটা অবশ্য বড় করতে পারেননি পাকিস্তানি ওপেনার। জাসপ্রীত বুমরাহর বলে লোকেশ রাহুলের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ৩৮ বলে ৬ চারে করেন ৩৬ রান।
মোহাম্মাদ রিজওয়ান এক রান করেই আউট হওয়া থেকে রক্ষা পান। আম্পায়ার রবীন্দ্র জাদেজার এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দিলেও রিভিউ দেন রিজওয়ান। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্প মিস করছিল।
পাকিস্তানের দলীয় ৭৩ রানে দুই উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন বাবর ও রিজওয়ান। তৃতীয় উইকেটে এ দুই ব্যাটার যোগ করেন ৮২ রান। ফিফটির দেখা পাওয়া মাত্রই বাবর আজমকে বোল্ড করে ভারতীয় দলে স্বস্তি ফেরান মোহাম্মাদ সিরাজ। চমৎকার ব্যাটিং করতে থাকা পাকিস্তানের অধিনায়ক ৫৮ বলে ৭ চারে খেলেন ৫০ রানের ইনিংস।
বাবরের বিদায়ের পর ফিফটি পান রিজওয়ান। তার সঙ্গে বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হন শাকিল ও ইফতিখার। রিস্ট স্পিনার কুলদ্বীপ যাদবের করা ৩৩তম ওভারে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে শাকিল ৬ রান করে মাঠ ছাড়েন। একই ওভারে লেগ স্টাম্পের উপরে থাকা বল সুইপ করতে যান ৪ রান করা ইফতিখার। বল তার গ্লাভসে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে।
অর্ধশতক থেকে মাত্র এক রান দূরে থাকতে মোহাম্মাদ রিজওয়ানকে বোল্ড করেন জাসপ্রীত বুমরাহ। এরপর ২ রান করা শাদাব খানও বোল্ড হন বুমরাহর বলে। মাত্র ১৬ রান যোগ করতেই ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ২ উইকেটে ১৫৫ থেকে আকস্মিকভাবে স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৭১ রান।
১৮৭ রানে পাকিস্তান অষ্টম ও নবম উইকেট হারায়। পান্ডিয়ার বলে মিড অনে সহজ ক্যাচ ধরেন বুমরাহ। খানিক পর হাসান আলীর উইকেট তুলে নেন জাদেজা। বল সহজেই তালুবন্দি করেন শুভমান গিল। শেষ ব্যাটার হিসেবে জাদেজার বলে এলবিডব্লিউ হন ২ রান করা হারিস রউফ। ২ রানে অপরাজিত থাকেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
ভারতের পক্ষে বুমরাহ, সিরাজ, হার্দিক, কুলদ্বীপ ও জাদেজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।







