প্রোটিয়াদের পাহাড়সম রানা তাড়া নেমে পাত্তাই পায়নি ইংল্যান্ড। জানসেন-কোয়েটজি ও রাবাদাদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জশ বাটলাররের দল। সাউথ আফ্রিকার কাছে ২২৯ রানে হেরে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের সবচেয়ে বড় পরাজয় দেখল ইংল্যান্ড। এর আগে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২১ রানের বড় পরাজয় দেখেছিল ইংল্যান্ড।
শনিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রোটিয়াদের ব্যাটে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক জশ বাটলার। আগে ব্যাটে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেটে ৩৯৯ রানের সংগ্রহ পায় সাউথ আফ্রিকা। জবাবে নেমে ২২ ওভারে ১৭০ রান করে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
প্রোটিয়াদের বড় সংগ্রহ তাড়ায় নেমে শুরুতে রান তোলার আভাস দিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে তৃতীয় ওভারে ছন্দপতন ঘটে। দলীয় ১৮ রানে জনি বেয়ারস্টোকে ফেরান লুনগি এনগিদি। ১২ বলে ১০ রান করেন এই ওপেনার। এরপর জো রুট ও ডেভিড মালানকে ফেরান মার্কো জানসেন। ২৪ রানে তিন ব্যাটারকে হারানোর চাপ কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন বেন স্টোকস ও হ্যারি ব্রুক।
নবম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ৩৮ রানে স্টোকসকে ফেরান রাবাদা। ৮ বলে ৫ রান করে ফিরে যান ইংলিশ অলরাউন্ডার। এরপর ব্রুক-বাটলার জুটি ২৯ রান তোলেন। ১২তম ওভারে বাটলার ও ব্রুককে ফেরান জেরাল্ড কোয়েটজি। বাটলার ৭ বলে ১৫ ও ব্রুক ২৫ বলে ১৭ রান করে ফেরেন।
১৬তম ওভারের প্রথম বলে আদিল রশিদকে ফেরান কোয়েটজি। ১৪ বলে ১০ রান করেন রশিদ। পরের ওভারেই ১২ বলে ১২ রান ডেভিড উইলি ফেরেন এনগিদির দ্বিতীয় শিকার হয়ে।
১০০ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর ৩৩ বলে ৭০ রানের জুটি গড়েন গাস অ্যাটকিনসন ও মার্ক উড। দুই টেলেন্ডারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমায় ইংল্যান্ড। ২২তম ওভারের শেষ বলে কেশব মহারাজের শিকার হন অ্যাটকিনসন। ২১ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। বোলিংয়ের সময় চোট পাওয়ায় ব্যাটে নামেননি রিচি টপলে। তাতেই ইতি ঘটে ইংলিশদের ইনিংসের। দুটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১৭ বলে ৪৩ রানের অপরাজিত ছিলেন মার্ক উড।
প্রোটিয়াদের হয়ে তিনটি উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েটজি। লুনগি এনগিদি ও মার্কো জানসেন নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া কাগিসো রাবাদা ও কেশব মহারাজ নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টসে ব্যাটে নেমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ করেছে সাউথ আফ্রিকা। শেষ ১০ ওভারে ইংলিশ বোলারদের রীতিমত তুলোধুনো করেছেন হেনরিখ ক্লাসেন ও মার্কো জানসেন। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে তুলেছেন ১৪৩ রান। আর শেষ পাঁচ ওভারে তুলেছেন ৮৪ রান। যদিও শেষ ওভারে দুই ব্যাটারকে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা।
ইনিংসের শুরুতেই কুইন্টন ডি ককের উইকেট হারালেও পরে দারুণ করেছেন ব্যাটাররা। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা অসুস্থতার কারণে ছিলেন না এই ম্যাচে। তার বদলি হিসেবে নামা রেজা হেনড্রিক্স খেলেছেন দুর্দান্ত। রসি ফন ডার ডুসেনকে নিয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। নয়টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭৫ বলে ৮৫ রান করে ফেরেন। আটটি চারে ৬১ বলে ৬০ রান করেন ডুসেন।
ইংলিশ বোলারদের বিপক্ষে ডি কক ও ডেভিড মিলার প্রোটিয়া ব্যাটারদের প্রায়ই প্রত্যেকেই ব্যাট হাতে দারুণ করেছেন। ৪৪ বলে ৪২ রান করে মার্করাম ফেরার পর দ্রুতই ফিরে যান মিলার। নামের সঙ্গে যোগ করেন মাত্র ৫ রান। এরপর মার্কো জানসেনকে নিয়ে রানের পাহাড় গড়েন ক্লাসেন।
ইংলিশ বোলারদের বিরুদ্ধে তান্ডব চালিয়ে ৬১ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরির মাঝে যা স্থান করে নিয়েছে ছয়ে। বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডে সবার শীর্ষে আছেন ক্লাসেনের সতীর্থ এইডেন মার্করাম। চলতি আসরে দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মার্করাম।
ক্লাসেনের পাশাপাশি ঝড় তুলেছেন জানসেনও। ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ ওভারের প্রথম বলে ফিরে যান ক্লাসেন। ১২টি চার ও চারটি ছক্কায় ৬৭ বলে ১০৯ রান করেন তিনি।
ক্লাসেন ফেরার পর ফিরে যান জেরাল্ড কোয়েটজি। ৩ রান করেন তিনি। আর ৪২ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন জানসেন। তান্ডব চালানো ইনিংসটিতে ছিল তিনটি চার ও ছয়টি ছক্কার মার।
ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন রিচি টপলে। গাস অ্যাটকিনসন ও আদিল রশিদ নেন দুটি করে উইকেট।








