বাংলাদেশ দলে ওপেনিংয়ে নিয়মিতই বিশ্বকাপে জুটি বাঁধছেন লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম। টানা চার ম্যাচের দেখা গেছে এমন দৃশ্য। বাকি পজিশনগুলোতে আসছে বারবার পরিবর্তন। ক্রিকেটের বিশ্বআসরে ব্যাটিং অর্ডারে ঘনঘন পরিবর্তন আসা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
স্বাগতিক ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হারের পর ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে খেলা খেলবে, সেই আশার কথা শুনিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও বারবার ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং অর্ডারে লাগাতার পরিবর্তন দলের ক্ষতি করছে কিনা, শান্তকে সেই প্রশ্ন করা হয়। সাকিব আল হাসানের চোটের কারণে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া বাঁহাতি ব্যাটার অবশ্য অবাক করা কথাই বললেন।
‘সবাই তাদের প্যাটিং পজিশন জানে। নিজেদের পজিশন নিয়ে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে আছে। সকলেই নিজেদের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ তিনে নামলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচে নামেন। কিউইদের বিপক্ষে তাকে আবারো তিনে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার ভারতের সঙ্গে মিরাজ চার নম্বরে খেলেন।
ওয়ানডেতে অভিষেকের পর পাঁচ নম্বর জায়গাটা পাকাপোক্তই করে ফেলেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। আফগানদের সঙ্গে রান তাড়ার করতে গিয়ে ৪ উইকেট পড়লেও তাকে নামানোই হয়নি। ইংলিশদের সাথে সাত নম্বরে হৃদয় নামাটা ছিল বিস্ময়কর। গতবারের ফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি সাতে নামেন। তবে টাইগারদের চতুর্থ ম্যাচে পুরনো জায়গায় ফেরেন ডানহাতি ব্যাটার।
‘সত্যি বলতে প্রস্তুতি খুবই ভালো ছিল। আমরা যে জায়গায় ভুগছিলাম, ওই টপ অর্ডারটায় ভালো হয়েছে। বোলারদের এখানে খুব বেশি একটা দোষ দেখি না। আমার মনে হয় বোলাররা যথেষ্ট ভালো বল করছে। এখানেও উন্নতির জায়গা আছে। আমরা ব্যাটসম্যানরা যদি বোর্ডে আরেকটু রান দিতে পারতাম, তাহলে তাদের জন্য কাজটা আরেকটু সহজ হতো।’
প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৬৩ রান। ১১-৪০ ওভারের মধ্যে ১৩৬ রান যোগ করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। বড় স্কোর সংগ্রহের আশা সেখানেই হারিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শান্তর ভাষ্য, ‘উইকেট ভালো ছিল। আমরা কয়েকটা আউট ছিল সফট ডিসমিসাল। আমরা ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিতে পারিনি।
‘প্রত্যেকটা ব্যাটসম্যানেরই দায়িত্ব দলের হয়ে রান করা। আমি যে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করি, সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সামনের ম্যাচ নিয়ে এখন মনোযোগ দিতে হবে।’
রান তাড়ায় বিশ্বের অন্যতম সেরা দল ভারত। তারপরেও টসে জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নেন শান্ত। কোন চিন্তা থেকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামার সিদ্ধান্ত এসেছিল। তার সরাসরি জবাব লাল-সবুজের দলের ভারপ্রাপ্ত দলনেতা দেননি। শুধু এটুকুই বললেন, ‘আমাদের শুরুটা দারুণ ছিল। মিডল ওভারে ভালো ব্যাটিং করিনি।’
এশিয়া কাপ থেকে টপ অর্ডারে মিরাজকে মেক শিফট হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে নামানো হচ্ছিল। এখন অবশ্য নিয়মিতই তিনি আগে ব্যাট করতে নামেন। দলের সেরা ব্যাটার হলেও নিয়মিত ছয়ে নামছেন ফর্মে থাকা মুশফিকুর রহিম। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের পক্ষেই সাফাই দিলেন শান্ত।
‘আমার মনে হয় মিরাজের আগে নামা ঠিকই ছিল। হৃদয় পাঁচে ব্যাট করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। মুশফিক ভাই ছয়ে নিয়মিত রান করছে। রিয়াদ ভাই এর আগে একটা ইনিংস সাতে ভালো করেছে। সাকিব ভাই থাকলে চারে ব্যাটিং করতো। আমার মনে হয় ব্যাটিং অর্ডার ঠিকই ছিল।’







