বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটছিলেন তাসকিন আহমেদ। প্রস্তুত ছিলেন আফগান ব্যাটার। টিভি পর্দায় স্পষ্ট দেখা যায়, টাইগার পেসার দৌড়ানোর সময় মাঠে উড়ছে বালু! আউট ফিল্ডের ঘাসের অবস্থা নাজুক। ধর্মশালার মাঠে মাটির অস্তিত্ব টের পাওয়াই দায়! চারদিকে যেন বালুর সমাহার, তার উপর আলগা ঘাস। সেই মাঠে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
গত ম্যাচে আফগানিস্তানের ফিল্ডিংয়ের সময় বাউন্ডারি লাইনে বল ঠেকাতে গিয়ে ব্যর্থ হন মুজিব উর রহমান। ডাইভ দেয়ার সময় দড়ির কাছের মাটি উপড়ে উঠে যায়, খানিকটা চোট পান মুজিব। বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন হতশ্রী আউটফিল্ডকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেয়া নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের পর মাঠের বাজে অবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন জোনাথন ট্রট। আফগান কোচ বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে মুজিব হাঁটুর মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েনি।’
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও ধর্মশালার আউট ফিল্ড নিয়ে হয়েছে হরেক কথা। টাইগার-ইংলিশ দুদলের প্রতিনিধিরাই বিস্তর বলেছেন মাঠ নিয়ে। সাংবাদিকরাও করে গেছেন একের পর এক প্রশ্ন।
হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগেরদিন সোমবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার। মাঠের আউট ফিল্ড নিয়ে তার কাছে প্রশ্ন যায়। দেন আক্রমণাত্মক উত্তর, ‘আমার মতে, মাঠ আসলে বাজে। খুব সাবধানে ডাইভ দিতে হবে। ফিল্ডিংয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রান বাঁচাতে হলে ডাইভ দিতেই হবে। আউট ফিল্ড মোটেও আদর্শ অবস্থায় নেই।’
টাইগারদের বিপক্ষে বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে চোটে পড়লেও মারাত্মক কিছু হয়নি মুজিবের। ঘটনাটি নিয়ে বাটলারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বলেন, ‘যেকোনো সময় যেকেউ মাঠে ইনজুরিতে পড়তে পারে। সাবধানে থাকতে হবে। দেশের হয়ে যখন খেলবেন, প্রতিটি রান বাঁচানোর চেষ্টা থাকে। দুই দলের জন্যই আসলে একই বাস্তবতা। উইকেটটা বেশ ভালো আছে। আমরা ভালো খেলার জন্য ক্ষুধার্ত।’
‘আইপিএলে খেলার সময় দেখেছি, পিচে পেস আর বাউন্স ভালো হয়। যেমন আউটফিল্ড ছিল, এখন তার চেয়ে ভিন্ন। আমরা আলোচনা করেছি, মানিয়ে নিতে হবে।’
বাংলাদেশের পক্ষে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ। বিতর্কিত আউট ফিল্ড নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলেও সমালোচনার ধারের কাছেও যাননি লঙ্কানদের সাবেক ক্রিকেটার। বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মাঠের অবস্থা বিষয়ক প্রশ্নে নিরাপদেই হেঁটেছেন তিনি।

‘আমি মনে করি, আইসিসি এ ব্যাপারে বেশ কাজ করেছে। মানদণ্ড বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। কর্তৃপক্ষ যেহেতু ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের জন্য অনুমতি দিয়েছে, সুতরাং আমি খুশি।’
‘মাঝে মাঝে বৃষ্টি আসলে মাঠ এরকমটা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মান বিচারের কথা যদি আসে, তাহলে আমি অভিযোগ কেন করবো? আমি সেই বিচার করার চিন্তায় যাবো না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য উপযোগী, আমি সন্তুষ্ট।’
আউট ফিল্ড বাজে হওয়ায় ফিল্ডারদের কোনো বিশেষ পরামর্শ দেয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নও হেরাথের দিকে যায়। জয়ের মানসিকতা দলের থাকার পাশাপাশি ফিল্ডিং নিয়ে গণ্ডি বেধে দেয়া হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করলেন।
‘দুইদিন আগেই যেহেতু খেলেছি, তাই ভালোভাবেই জানি এই মাঠে কীভাবে ফিল্ডিং করতে হবে। আমাদের মাঠের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আফগানিস্তানের সঙ্গে আমরা শুভ সূচনা পেয়েছি। আমাদের একই মানসিকতা বজায় রাখতে হবে।’
‘আমরা তাদের কোনো গণ্ডিতে বেধে দেয়ার ভেতর যাচ্ছি না। যদি তাদের গণ্ডিতে বেধে রাখার কথা বলি, এমন অবস্থায় তারা নিজেদের শতভাগ দিতে পারবে না। তারা আগের ম্যাচে যেভাবে খেলেছে, সেভাবেই আউট ফিল্ডে সেরাটা দেবে।’








