শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচের দেখা মিলল হোম অব ক্রিকেট মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। পাকিস্তানকে সুপার ওভারে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা টেনেছে বাংলাদেশ নারী দল। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক ১৯ ম্যাচে অধিনায়কত্বের রেকর্ড গড়ার দিনটি জয়ে রাঙান নিগার সুলতানা জ্যোতি, সুপার ওভারে শেষ বলে চার হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
সুপার ওভারে আগে ব্যাটে নামা পাকিস্তান প্রথম বলে উইকেট হারায়। নাহিদার বলে বোল্ড হন ইরাম জাভেদ। দ্বিতীয় বলে এক রান নেন বিসমাহ মারুফ। তৃতীয় বলে চার ও চতুর্থ বলে ২ রান নেন আলিয়া রিয়াজ। পঞ্চম বলে বিসমাহ রান আউট হলে সুপার ওভারে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৮ রান।
রানতাড়ায় নেমে সান্ধুর বলে ডিপ এক্সট্রা কভার দিয়ে ৪ মারেন সোবহানা মোস্তারি। দ্বিতীয় বলটি ডট হলে তৃতীয় বলে আসে এক রান। স্বর্ণা আক্তার চতুর্থ বলে নেন এক রান। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে পঞ্চম বলে সোবহানা বোল্ড হয়ে মাঠ ছাড়েন। শেষ বলে জয়ের জন্য বাঘিনীদের দরকার ছিল ২ রান। স্ট্রেইট শটে চার মেরে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান অধিনায়ক জ্যোতি।
এর আগে পাকিস্তান ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ধীরগতির ব্যাটিং করেছে টিম টাইগ্রেসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে। ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর দ্রুত উইকেট হারায় সফরকারী দল।
সিদরা ২২ রান করে ফাহিমা খাতুনের বলে ফারজানা হকের তালুবন্দি হন। খানিক পর শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন বিসমাহ মারুফ। খাতা না খুলেই রাবেয়া খানের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন।
ওপেনার সাদাফ শামস ৮৩ বলে ৩ চারে ২৯ রান করে নিশিতা আক্তার নিশির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। রাবেয়া খানের বলে ২১ রান করা আলিয়া রিয়াজও স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়লে স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৫ রান।
দলীয় ১০০ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। মারুফা আক্তারের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন ১৫ রান করা ইরাম জাভেদ। অধিনায়ক নিদা দ্বারও হন স্টাম্পিংয়ের শিকার, রাবেয়ার শিকার হওয়ার আগে করেন ২৭ রান।
সপ্তম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ২৫ রান যোগ করে বাংলাদেশকে চিন্তায় ফেলেন নাজিহা আলভি ও ডায়ানা বেগ। নাহিদা আক্তারের বলে স্বর্ণার তালুবন্দি হয়ে ২২ রান করা নাজিহা ড্রেসিংরুমে ফিরলে ম্যাচ জমে ওঠে।
শেষ ১৮ বলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৭ রান। ৪৮তম ওভারে ফাহিমা প্রথম দুটি বল ডট করেন। তৃতীয় বলে ১৪ রান করা ডায়ানা রানআউট হন। সান্ধু চতুর্থ বলে নেন এক রান। পঞ্চম বলে চার মারেন উম্ম-ই-হানি। ওভারের শেষ বলে দৌড়ে নেন ২ রান।
সফরকারীদের শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ১০ রান, হাতে ছিল ২ উইকেট। নাহিদা ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে দেন এক রান। দ্বিতীয় বলে চার হাঁকানোর পর তৃতীয় বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হন উম্ম-ই-হানি। সমীকরণ দাঁড়ায় ৯ বলে ৪ রান। চতুর্থ বলটি ছিল ডট। সান্ধু পঞ্চম বলে নেন এক রান। শেষ বল থেকে আসেনি কোনো রান।
শেষ ৬ বলে সফরকারীদের দরকার পড়ে ৩ রান, হাতে ১ উইকেট। বল হাতে নেম ফাহিমা। প্রথম বলে রান হয়নি। দ্বিতীয় বলে আসে এক রান। তৃতীয় বল হয় ডট। নিজের বলে ফাহিমা ফিল্ডিং মিস করায় চতুর্থ বলে এক রান হলে স্কোর সমান হয়। পঞ্চম বলে সান্ধু রানআউট হলে স্কোর টাই হওয়ায় খেলা সুপার ওভারে গড়ায়।
শুরুতে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করলেও ৯ উইকেটে ১৬৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তিন ম্যাচের সিরিজে সমতায় ফিরতে বোলারদের পারফরম্যান্সের উপর স্বাগতিকদের ভরসা রাখতে হয় মাঝারি স্কোর নিয়েই।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের ইনিংসেও ছিল ধীরগতির ব্যাটিং প্রদর্শনী। দলীয় ২১ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিক দল। সাদিয়া ইকবালের বলে ১২ রান করে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন মুর্শিদা খাতুন। ইনিংস বড় করতে পারেননি সোবহানা মোস্তারি। স্পিনার নাশরা সান্ধুর বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে করেন ১৬ রান।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে নিয়ে ৪৯ রান যোগ করেন ওপেনার ফারজানা হক। ধীরগতির ইনিংস খেলে ৮৮ বলে ৩ চারে ৪০ রান করা ফারজানা রানআউটে কাটা পড়ে সাজঘরে ফিরলে জুটি ভাঙে। ডায়ানা বেগের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ১৬ রান করা ফাহিমা খাতুন। টিম টাইগ্রেসের স্কোর তখন ৩৮.১ ওভারে ১১৯ রান।
জ্যোতি ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ফিফটি পেলেও শেষদিকের ব্যাটাররা তার সঙ্গে জুটি গড়তে ব্যর্থ হন। নিয়মিত উইকেট পতনে বড় পুঁজি পায়নি লাল-সবুজের দল। শেষ ওভারে বাঘিনীদের অধিনায়ক স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। তার আগে খেলেন ১০৪ বলে ৩ চারে ৫৪ রানের ইনিংস। রুমানা আহমেদকে টপকে এদিন জ্যোতি টিম টাইগ্রেসের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
পাকিস্তানের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন সাদিয়া ও সান্ধু। একটি করে উইকেট শিকার করেন ডায়ানা, নিদা দার ও উম্ম-ই-হানি।
টি-টুয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। সফরকারীদের স্পিন ঘূর্ণিতে স্বাগতিকরা মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয়েছিল। ৮২ রানের লক্ষ্যে সহজে পৌঁছে যায় পাকিস্তান, তুলেছিল ৫ উইকেটের জয়।








