সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সাথে নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে নেতা-কর্মীদের সার্বক্ষনিক সতর্ক পাহারায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ওবায়দুল কাদের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে আরেক মুক্তিযুদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য মৃত্যু হলেও পথ ছাড়বে না আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
২৮ অক্টোবর, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেইটে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ আর নয়া পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ। সাথে আরো কয়েকটি দল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।রাজনীতির এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক, ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চাইছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিএনপি বিতর্কিত করেছে। বিচারপতি খায়রুল হক সংবিধানের কচুকাটা করেননি, বরং বিএনপি সংবিধানকে কচুকাটা করেছে, ছিন্নভিন্ন করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকা মানে আমাদের দেশকে ছোট করা, দেশের অর্জনকে ছোট করা।
তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে চায়। তাদের রাজনীতি হলো যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল করা। বর্তমানে তারা সেটারই প্র্যাকটিস করছে। তারা জনগণের ওপর দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছাতে চায়।
কাদের আরও বলেন, আমরা শান্তি সমাবেশ করছি, আগামীকালও শান্তি সমাবেশ করব। আমরা অশান্তি করতে চাই না, আমরা সরকারে আছি, আমরা কেন অশান্তি করব? বিএনপি অশান্তি করতে চায়।
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, লড়াই করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। দেশ কি ’৪৭-এর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে চলবে নাকি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার আদর্শে চলবে। সমাধান আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাই আমাদের আজ লড়াই করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যহত হতে দিবে না আওয়ামী লীগ।
শনিবারের শান্তি সমাবেশ সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় করতে চায় আওয়ামী লীগ। দুপুর আড়াইটায় সমাবেশ শুরুর ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মো. ফারুক খান, শাহজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম প্রমুখ।







