বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে গুরুতর আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই সংবাদপত্রের অফিসে হামলার পাশাপাশি এ সাংবাদিকদের লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে মারধরও করেছে পুলিশ ও রাজনৈতিক কর্মীরা।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)।
বিবৃতিতে আরএসএফ দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের প্রধান সেলিয়া মের্সিয়ার বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর আশা করা হচ্ছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে সাংবাদিকরা এখনো অনিরাপদ। তারা রিপোর্টিং করার সময় হামলার শিকার হচ্ছেন, প্রতিবেদনের জন্য শারীরিক প্রতিশোধের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং বিক্ষোভকারীরা তাদের অফিসে হামলা চালাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, চট্টগ্রামের প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস লিমিটেড টেক্সটাইল কারখানার কর্মচারীদের পরিচয়ে শত শত মানুষ চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকার অফিসে হামলা চালায়। তারা একটি নিবন্ধ অপসারণের দাবি জানায়, যা তাদের কারখানার সমালোচনা করেছিল।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি, শরীয়তপুরে দৈনিক সমকালের সংবাদদাতা সোহাগ খানকে হাতুড়ি ও ছুরি দিয়ে আক্রমণ করা হয়। তিনি একটি চিকিৎসা অবহেলার প্রতিবেদন করার পর এই হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা একজন ক্লিনিক মালিকের ভাই ও তার সহযোগী বলে জানা গেছে। সোহাগ খানের সহকর্মী তিন সাংবাদিকও তাকে সাহায্য করতে গিয়ে আহত হন।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এটিএন নিউজের জাভেদ আখতার এবং অন্যান্য সাংবাদিকগণ হামলার শিকার হন।
৬ ফেব্রুয়ারি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট২৪ টিভির মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং একাত্তর টিভির সৈয়দ মাইনুল আহসান মারুফসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ঢাকায় একটি শেখ হাসিনার পরিবার সংশ্লিষ্ট জাদুঘর ভাঙচুরের ঘটনা কভার করার সময় বিক্ষোভকারীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন। পুলিশ এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেনি।
এছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবেদন করার সময় ৬ সাংবাদিক পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানায় আরএসএফ।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এই ঘটনাগুলোকে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সহিংসতার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি কর্তৃপক্ষকে এই হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।








