আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি কিংবা পুলিশের হাতে সোপর্দ করার প্রথাগত পথে গেলেন না তারা। বরং অপরাধীকে অনুশোচনার সুযোগ দিতে বেছে নিলেন এক ব্যতিক্রমী ‘সংশোধনমূলক’ ব্যবস্থা।
চুরির দায়ে অভিযুক্ত এক যুবককে দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করিয়ে অনন্য মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দ নগর মন্দির পাড়া এলাকার বাসিন্দারা।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) বিকালে মন্দির পাড়া মাছ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাসুদ (৩০) নামে এক যুবক এক ব্যক্তির বাইসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। উত্তেজিত কেউ কেউ মারধরের চেষ্টা করলেও এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা তাতে বাধা দেন।
আটক যুবককে প্রথমে বেঁধে রাখা হলেও পরবর্তীতে তার শাস্তির বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সিদ্ধান্ত নেন, তাকে দিয়ে এলাকার প্রধান সড়ক পরিষ্কার করানো হবে। এই সিদ্ধান্তে মাসুদও রাজি হন এবং নতমস্তকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর হরিহরপুর আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাউর রহমান এই উদ্যোগকে হাজী মোহাম্মদ মহসিনের মহানুভবতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘‘দানবীর মহসিন চোরকে সাজা না দিয়ে তার অভাব দূর করেছিলেন। আজকের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে সমাজপতিদের ইতিবাচক মনোভাবই সমাজকে বদলে দিতে পারে।’’
সমাজকর্মী অ্যাডভোকেট মৌসুমী রহমান ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের শাস্তি অপরাধীকে সামাজিকভাবে হেয় না করে বরং নিজের ভুল বোঝার সুযোগ করে দেয়। এতে অপরাধ প্রবণতা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
স্কুল শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘বিচার ও মানবিকতার এমন সহাবস্থান সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’’
দেশে যখন বিচারহীনতা ও মবসন্ত্রাসের খবর নিয়মিত শিরোনাম হচ্ছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের এই ঘটনা সামাজিক শৃঙ্খলার এক নতুন পথ দেখাচ্ছে।







