পাকিস্তানের দুই স্পিনার সাজিদ খান ও নোমান আলীর ঘূর্ণিতে মুলতানে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে পাকিস্তান। শান মাসুদের দল সফরকারীদের হারিয়েছে ১৫২ রানে। জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা থাকল। রাওয়ালপিন্ডিতে শেষ ম্যাচে সিরিজের ফল নির্ধারণ হবে। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাজিদ। নোমান দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন ১১ উইকেট।
২০২১ সালের পর ঘরের মাটিতে প্রথম জয় পেয়েছে পাকিস্তান। অধিনায়ক হওয়ার পর টানা ছয় ম্যাচ হারের পর শান মাসুদ প্রথম জয় পেয়েছেন। পাকিস্তান ঘরের মাটিতে ১১ ম্যাচ হারার পর প্রথম জয় পেল।
মুলতানে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ৪৭ রানে হারের পর একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে নেমে জ্যাক লিচের ঘূর্ণিতে প্রথম ইনিংসে ৩৬৬ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে সাজিদ খান ও নোমান আলীর ঘূর্ণিতে ২৯১ রানে থামে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। ৭৫ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে শান মাসুদরা পড়েন শোয়েব বশিরের ঘূর্ণির সামনে, ২২১ রান করে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য দেয় ২৯৭ রানের। লক্ষ্যে নেমে মাত্র ১৪৪ রানে অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। ১৫২ রানের জয়ে সিরিজে সমতা টেনেছে পাকিস্তান।
দুই স্পিনার নোমান ও সাজিদ দুই ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেটের সবগুলো নিয়ে দারুণ এক ইতিহাস গড়েছেন। এক টেস্টে দুই বোলারের সবগুলো উইকেট নেয়ার এটি তৃতীয় ঘটনা হলেও স্পিনার হিসেবে দুই ইনিংসে সবগুলো উইকেট নেয়ার ঘটনা টেস্টের ইতিহাসে এটাই প্রথম।
প্রথম ইনিংসে সাজিদ ১১১ রানে ৭টি এবং নোমান ১০১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে নোমানের ৪৬ রানে ৮ উইকেটের সঙ্গে ৯৩ রানে সাজিদ নেন ২ উইকেট। এ ইনিংসে পাকিস্তানের আর কোনো বোলারকে বলই হাতে নিতে হয়নি।
প্রথমবার ১৯৭২ সালের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার দুই পেসার ডেনিস লিলি ও বব ম্যাসি ইংল্যান্ডের দুই ইনিংসে ২০ উইকেট ভাগভাগি করে নেন। ১৯৯৭ সালের অ্যাশেজে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার দুই পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা এবং মাইকেল কাসপ্রোভিচ ইংল্যান্ডের ২০ উইকেটের সবগুলো নিয়েছিলেন ভাগবাটোয়ারা।
মুলতানে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি পেয়েছেন পাকিস্তানের ২৯ বর্ষী অলরাউন্ডার কামরান গুলাম। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিতে ১১৮ রান করেছিলেন গুলাম। সেঞ্চুরি পেয়েছেন ইংল্যান্ড ওপেনার বেন ডাকেটও। তার সেই ইনিংসটি কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারী দল।
স্পিন যাদুতে ভুগেছে পাকিস্তানও। প্রথম ইনিংসে বাঁহাতি জ্যাক লিচের ঘূর্ণির পর দ্বিতীয় ইনিংসে ভুগিয়েছে ডানহাতি শোয়েব বশির। এ দুই স্পিনার দুই ইনিংসে ৪ উইকেট করে মোট ৮ উইকেট নিয়েছেন।








