পুলিশের নতুন ইউনিফর্মের জন্য সরবরাহ করা কাপড়ের মান নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, ল্যাব পরীক্ষায় চুক্তিতে উল্লেখিত মানের ঘাটতি পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউনিফর্মের কাপড়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ময়েশ্চার ম্যানেজমেন্ট বা আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা। দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য এই বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কাপড়ের দামও তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের পর কাপড় সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় নোমান গ্রুপকে। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিট থেকে কাপড়ের মান নিয়ে অভিযোগ আসতে শুরু করলে তা পুনরায় পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, চুক্তি অনুযায়ী শার্টের কাপড়ে সুতার ঘনত্ব থাকার কথা ছিল ২০৫ জিএসএম (±৫)। কিন্তু পরীক্ষায় তা পাওয়া গেছে ১৯৩ জিএসএম। অর্থাৎ প্রতি পোশাকে ৭ জিএসএম কম রয়েছে। এছাড়া আর্দ্রতা শোষণক্ষমতা চুক্তি অনুযায়ী ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষায় তা পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার।
বস্ত্র খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য মতে, ৭ জিএসএম ঘাটতি মানে একই পরিমাণ সুতা দিয়ে বেশি সংখ্যক পোশাক তৈরি সম্ভব, যা আর্থিক অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কাপড় সরবরাহের আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ল্যাবে মান যাচাই করা হয়েছে এবং দরপত্রের শর্ত পূরণ হওয়ার পরেই পুলিশ তা গ্রহণ করেছে। কিছু অসন্তুষ্ট ঠিকাদার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ইউনিটের জন্য কয়েক ধাপে মোট শতকোটি টাকার বেশি মূল্যের কাপড় কেনা হয়েছে। তবে উচ্চমূল্যে কেনা হলেও ইউনিফর্ম অস্বস্তিকর হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকেও ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন ইউনিটের মতামত সংগ্রহ করে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।







