রাজধানীর ডেমরা থানায় করা ধর্ষণ মামলায় গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন।
এদিন গায়ক নোবেলকে আদালতে নিয়ে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার পরিদর্শক মুরাদ হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গতকাল সোমবার (১৯ মে) দিনগত রাত ২টার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বাদীকে আসামি নোবেল অপহরণ ও জিম্মি করে বিয়ের প্রলোভনে সাত মাস ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন।
৭ মাস ধরে নারীকে বাসায় আটকে ধর্ষণ
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, কণ্ঠশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল এক নারীকে সাত মাস একটি বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে আসছিলেন। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে কল পেয়ে বাসাটি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পারি, গত নভেম্বরে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে গুলশানে দেখা করার কথা বলে ডেকে নেন নোবেল। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। পরে সাত মাস ডেমরার একটি বাসায় আটকে রাখেন তিনি। এই সময় তিনি ছাত্রীকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন। এসব ঘটনা নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এই ভিডিও দিয়ে ছাত্রীকে তিনি ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছিলেন।
সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরে পালাতে চেয়েছিলেন নোবেল
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে নোবেলকে ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নোবেল সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এ জন্য তিনি একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলেন, তবে পালানোর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ০১:৫০ মিনিটে ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যা আছে এজাহারে
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালে নোবেলের সঙ্গে পরিচয় হয় বাদীর, এরপর মুঠোফোনে প্রায় সময় কথাবার্তা হতো। গত বছরের ১২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে দুজনের দেখা হয়, এ সময় স্টুডিও দেখানোর কথা বলে তাকে ডেমরায় বাসায় নিয়ে আসেন নোবেল। সেখান থেকে বাদী চলে যেতে চাইলে নোবেল ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও দু–তিনজন একটি কক্ষে তাকে আটক করে মুঠোফোন নিয়ে নেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুঠোফোন চাইলে তা ভেঙে ফেলা হয়, যাতে বাদীর আনুমানিক ২৬ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়।
ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ এনে বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, নোবেল তাকে আটক রেখে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন। কথামতো বাসায় না থাকলে ধারণকৃত ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। বাদী ভয়ে কাউকে কোনো কিছু বলার সাহস পাননি। এ ছাড়া নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে বাদীকে মারপিট করতেন নোবেল। এমনকি নোবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাদীকে সিঁড়ি দিয়ে চুলের মুটি ধরে টানাহেঁচড়া করে, অপর একটি কক্ষে আটক করে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক নারীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনে নামানোর ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ভিডিও সূত্রেই বাদীর মা–বাবা তাকে চিনতে পারেন। এজাহারে বিষয়টি নিয়ে লেখা হয়, এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ কল দিলে গতকাল (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেমরা থানা-পুলিশের সহায়তায় নোবেলের বাসা থেকে বাদীকে উদ্ধার করা হয়।








