বাংলাদশের সিনেমা নির্মাণের সূতিকাগার বিএফডিসি (বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন) দীর্ঘদিন যাবৎ একপ্রকার অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। বড় বড় শুটিং ফ্লোর থাকলেও মাসের পর সেখানে কোনো সিনেমার শুটিং হয় না। মাঝেমধ্যে দু-একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং হতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এফডিসি গিয়ে দেখা যায়, কোথাও কেউ নেই! মূল ফটক দিয়ে ঢুকে দেখা যায়, চারদিকে ফাঁকা। ঢুঁকেই চোখে পড়ে কড়ই তলায় জমে আছে কাদা! নিরাপত্তা রক্ষীর কাছ থেকে জানা যায়, ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন, এক নাম্বার ফ্লোরে। এছাড়া আর কোথাও কিচ্ছু নেই।
আবদুল হালিম নামে এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, শুধু তিনি কেন শেষ কবে এফডিসিতে সিনেমা শুটিং হয়েছে এফডিসির কেউ জানে না! আরও বলেন, আগে গেটে উদ্ভট মানুষ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হতো, এখন আমরা অলস বসে থাকি। এফডিসিতে আগে এক্সট্রা শিল্পীরা এসে বসে থাকতো। এখন তারাও কেউ আসে না।
তবে বিগত ছয় বছর ধরে এফডিসিতে শুটিংয়ের চেয়ে সমিতি চর্চা নিয়ে মাতামাতি হয়েছে বেশী। যদিও কেপিআই ভুক্ত এলাকায় কোনো সংগঠন থাকার নিয়ম নেই, তবুও অবৈধভাবে বছরের পর বছর ধরে অবস্থান করে আসছে পরিচালক, প্রযোজক শিল্পী সমিতির অফিসগুলো। মূল কাজ বাদ দিয়ে সংগঠন নিয়েই সরব থাকতে দেখা গেছে সিনেমার এই আঁতুরঘরকে।
এদিন ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো জমজমাট নেই কোনো সমিতি। দেখা গেল, প্রতিটি অফিসই ফাঁকা। একজন জানালেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনে এফডিসির সংগঠনগুলোর আওয়ামী পন্থী নেতারা একেবারে গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে এফডিসি এখন পুরোপুরিভাবে ফাঁকা!
এমনকি এফডিসির ক্যান্টিন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এফডিসির বিভিন্ন প্রডাকশন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত দু-একজন টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, শুটিংয়ের অভাবে এফডিসি জনশূন্য থাকে। এ কারণে ক্যান্টিনও বন্ধ থাকে।
প্রশাসনিক ভবন থেকে এফডিসির পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতির চত্বর ঢুঁ মারলেও কাউকে দেখা যায়নি। মান্না ডিজিটাল, ডাবিং স্টুডিও, ঝর্ণা শুটিং স্পট জনশূন্য। যোহরের আজানে এফডিসির প্রশাসনিক ভবন থেকে কয়েকজনকে দেখা যায় মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাচ্ছেন।
প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেও এফডিসিতে অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালকদের চোখে পড়েনি। আট নাম্বার ফ্লোরে একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানের সেট নির্মাণে কাজে ব্যস্ত ছিলেন এক টেকনিশিয়ান। কথায় কথায় বলছিলেন, অনেকদিন থেকে নতুন কোনো সিনেমার শুটিং নাই। অতিরিক্ত ভাড়া শুটিং না হওয়ার একটি কারণ। তাছাড়া নতুন ডিরেক্টর যারা সিনেমা নির্মাণ করেন, তারা এখানে শুটিং করতে চায় না।
এফডিসির ৩ ও ৪ নাম্বার ফ্লোর ভেঙে নির্মিত হচ্ছে ১৫ তলার বাণিজ্যিক ভবন। যেখানে বাণিজ্যিক ফ্লোরে হোটেল, শপিং মল, ফুডকোট, আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স, অডিটোরিয়াম হওয়ার কথা রয়েছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা হয় এফডিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ূয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ৯৪ কাঠা জমির ওপর নতুন এ ভবনটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চালু হওয়ার কথা।








