চুক্তি যাই হোক রাফাহায় হামলা হবেই: নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা দিচ্ছেন, পেছনে ইসরায়েলি পতাকা দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন ইসরায়েল গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহ আক্রমণ শুরু করবে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির জন্য হামসাম ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার এক চুক্তি আলোচনা চলমান অবস্থায় এই বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
জিম্মিদের আত্মীয়দের সাথে করা এক বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চুক্তিসহ বা ছাড়াই আক্রমণ চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাফাহ বিষয়ে তার স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার ৩০ এপ্রিল জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রাফাহতে হামলা থামাতে হবে এবং ইসরায়েলের উপর প্রভাবশালী সকল রাষ্ট্রকে এই হামলা প্রতিরোধ করার জন্য তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
গাজার ২ দশমক ৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ রাফাহয় বসবাস করে। গাজা ভূখণ্ডের অন্যান্য অংশে মানুষ যুদ্ধ থেকে বাঁচতে রাফাহয় আশ্রয় নিয়েছেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই এলাকা গুলোতে খাবার, পানি এবং ওষুধের অভাব দেখা গিয়েছে।
সোমবার পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, রাফাহয় আক্রমণ ফিলিস্তিনি জনগণের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হবে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা রাফাতে প্রবেশ করব এবং সম্পূর্ণ বিজয় অর্জনের জন্য আমরা সেখানে হামাস ব্যাটালিয়নগুলোকে চুক্তিসহ বা ছাড়াই নির্মূল করব।
গত বছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার সময় হামাস কর্তৃক ২৫৩ জন জিম্মির হয়। এর মধ্যে ১৩০ জন এখনও হামাসের কাছে জিম্মি আছে। জিম্মিদের মধ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের নেতৃত্বে হামলা চালানোর পর ইসরায়েল গাজায় আক্রমণ শুরু করে, যেখানে ইসরায়েল বলেছিল যে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছে এবং ২৫৩ জনকে জিম্মি করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, দখলদার ইসরায়েলের হামলার ফলে ৩৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং বেশিরভাগ জনসংখ্যা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।






