এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
স্থানীয় উৎপাদন খরচ কমিয়ে মাংসের দাম কমানোর প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। তিনি বলেছেন, গরুর মাংস আমদানির কোনো ইচ্ছা নেই। তবে দেশীয় উৎপাদনে এর দাম কমানো পরিকল্পনা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ব্রাজিল এবং অন্যান্য দেশ থেকে হিমায়িত গরুর মাংস আমদানির পক্ষে সমর্থনকারী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপের কথা উল্লেখ করেন।
ইউএনবির সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মাংস আমদানির কোনো ইচ্ছা নেই। বিদেশ থেকে মাংস আমদানি করতে সময় লাগে এবং সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা না হলে গরুর মাংসের পুষ্টির মান হ্রাস পেতে পারে, যা স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে।
তিনি বলেন, প্রতি বছর ঈদুল আজহায় দেশে ২০ থেকে ২৫ লাখ গবাদিপশু অবিক্রীত থেকে যায়। যেটি দিয়ে আমাদের চাহিদা পূর্ণ হবে বলে আমার বিশ্বাস।
উপদেষ্টা বলেন, আমদানিকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য দাম বৃদ্ধির অজুহাত ব্যবহার করা প্রাথমিকভাবে উপকারী বলে মনে হতে পারে, তবে এটি শেষ পর্যন্ত আমাদের মাংসের বাজারে বিদেশী নিয়ন্ত্রণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় গবাদি পশুর বাজারকে দুর্বল করলে আমাদের সমাজে এর পরিণতি সম্পর্কে আমাদের ভাবতে হবে।
উপদেষ্টা পশুখাদ্যের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সম্পর্কেও কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের সিন্ডিকেটগুলো ভাঙতে হবে, যারা এই দামগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। ফিড খরচ হ্রাস করা একটি অগ্রাধিকার। সরকার কৃষি খাতের জন্য বিদ্যুৎ বিলের উপর ভর্তুকি দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে। যেভাবে ছোট কৃষকদের উপর আর্থিক বোঝা কমানোর জন্য, শস্য চাষের জন্য দেওয়া হয়।
এসময় তিনি দেশীয় মাছের প্রজাতি, বিশেষ করে নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ের উৎপাদন কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা হাওর, বাঁওড় ও নদী থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ উৎপাদনে আরও বেশি মনোযোগ দিতে চাই।

তিনি চাষকৃত মাছের উপর জোর দেয়ার সমালোচনা করে বলেন, আমরা চাষকৃত মাছ উৎপাদনে এগিয়ে আছি এমন সংখ্যা দেখে আমি মুগ্ধ নই। আমাদের ৩০০ টিরও বেশি দেশীয় মাছের প্রজাতি ছিল এবং আমরা তাদের ফিরিয়ে আনতে চাই।
ইলিশ মাছ রপ্তানির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় ভোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তিনি বলেন, আমরা ইলিশ রপ্তানি করতে দিতে পারি না, যখন আমাদের নিজেদের লোকেরা কিনতে পারে না। এই বছর, আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি দুর্গা পূজার সময় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করতে।
তিনি জোর দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ বিশ্বের ৭০-৮০ শতাংশ ইলিশ উৎপাদন করে। তিনি বলেন, ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র এবং অভয়ারণ্য রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ইলিশের অবৈধ পাচার রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা পোল্ট্রি খামারিদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা ছোট ও মাঝারি আকারের পোল্ট্রি খামারীদের স্বার্থ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেব। অনেক নারী এই সেক্টরে জড়িত, এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখবে।
সাম্প্রতিক বন্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ পরিশোধ তিন মাসের জন্য স্থগিত করার সুপারিশ করেছে। আমি কুমিল্লার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার কৃষকদের সাথে কথা বলেছি। সরকার বন্যার সময় গবাদি পশুদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কথা বিবেচনা করছেন বলেও জানান তিনি।
বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে অন্তত এক হাজার ৫৯০ কোটি টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে ৪১১ কোটি টাকা। এবিষয়ে তিনি বলেন, আমরা পশুখাদ্য বিতরণ, ভ্যাকসিন এবং ঘাস কাটাসহ কৃষকদের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য বেশ কয়েকটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছি। মৎস্য খাতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টায় সরকার সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।








