সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেলে তা মোকাবেলার ব্যবস্থা প্রতিটি ভবনেই গড়ে তোলা দরকার। ‘নির্বানল-৭১’ একটি ওয়েব বেইজড মনিটর সিস্টেম যেখানে সার্বক্ষণিক রুমের তাপমাত্রা, আদ্রতা, ধোঁয়া, কারেন্ট ও ভোল্টেজ পর্যবেক্ষণ করবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণ করবে ‘নির্বানল-৭১’ নামের ডিভাইসটি।
নির্বানল-৭১ ডিভাইসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে চারটি ধাপ থাকবে। প্রথমত স্বয়ংক্রিয় ভাবে পানি বা গ্যাস প্রয়োগ করবে, দ্বিতীয়ত, অ্যালার্ম বাজবে, তৃতীয়ত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এসএমএস করবে এবং ওয়েব মনিটরে রুমের পরিবেশের অবস্থা দেখাবে। যা কর্মস্থলের বা বাড়ির পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও অগ্নিজনিত দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অর্থায়নে ‘নির্বানল-৭১’ ডিভাইসটি তৈরি করেছে প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ও তার দল। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের পরে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করার সময় থেকে ‘নির্বানল-৭১’ নিয়ে গবেষণা কাজ শুরু করেছিলেন প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি কর্মরত আছেন।
যেভাবে কাজ করবে ‘নির্বানল-৭১’
‘নির্বানল-৭১’ এর উদ্ভাবক প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: অগ্নিকাণ্ডের উৎস যদি শর্ট সার্কিট হয় তাহলে তাহলে নির্বানল-৭১ ডিভাইসটি সুনির্দিষ্টভাবে সেই রুমের বিদ্যুৎ বন্ধ করবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি বা গ্যাস প্রয়োগ করবে, আলার্ম বাজবে এবং ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ ও ভবন কর্তৃপক্ষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট স্থানের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে এস,এম,এস করবে। (যেমন, আগুন!!! দক্ষিণ বাড্ডা দারোগাবাড়ী মোড়, নূর মঞ্জিল,৫/বি, রুম নং-০৩)।
তবে শর্ট সার্কিট থেকে যদি আগুন কিংবা ধোঁয়া না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সে এসএমএস যাবে না। অগ্নিকাণ্ডের উৎস যদি প্রাকৃতিক হয়, তাহলে ভবনের কোন রুমে ধোঁয়া, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং কম আদ্রতার সৃষ্টি হলে সুনির্দিষ্টভাবে সেই রুমের বিদ্যুৎ বন্ধ হবে, পানি বা গ্যাস প্রয়োগ করবে অ্যালার্ম বাজবে এবং ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ,অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ ও ভবন কর্তৃপক্ষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট স্থানের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে এসএমএস করবে।
প্রকৌশলী জাকারিয়া আরও বললেন: আমরা আপডেট একটা ভার্সন নিয়ে আসতে যাচ্ছি, যেখানে ডিভাইসটিতে ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে। অনেক সময় দেখা যায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সেক্ষেত্রে ক্যামেরার মাধ্যমে আমরা ওই ব্যক্তিকে সহজেই শনাক্ত করতে পারব।
কারিগরি বিশ্লেষণ কী বলছে?
জাকারিয়া জানালেন, আমাদের দেশে প্রায়’শ বহুতল ভবন, শিল্প কারখানা এবং গুদাম ঘরে আগুন লেগে থাকে যার উৎস এবং অবস্থান জানতে অনেক সময় লাগে বিশেষ করে অবস্থান খুঁজে বের করার আগেই আগুন বহুদূরে ছড়িয়ে যায় এবং ব্যাপকতা লাভ করে যা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রাণ হারানোসহ ক্ষয়ক্ষতি হয় সম্পদের। ‘নির্বানল-৭১’ ডিভাইসটি দিয়ে আমরা অগ্নিকাণ্ডের আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে পারছি। ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হওয়ার শঙ্কা থাকছে না।
ডিভাইসের দাম কেমন হবে?
আমাদের ডিভাইসটি বর্তমানে প্রোডাক্ট হিসেবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। খুব দ্রুতই বাণিজ্যিকভাবে ডিভাইসগুলো বাজারজাত করব।ডিভাইসটির দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে জাকারিয়া বলেন: এক হাজার স্কয়ার ফিটের রুমে দুটি ডিভাইসে দাম পড়বে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। পাঁচ হাজার স্কয়ার ফিটের রুমের দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পড়বে ডিভাইস সেটআপে। এরসঙ্গে আলাদা কিছু সরঞ্জাম আছে। যেমন আউটলেটের কিছু পাইপ টানতে হবে সেগুলোর মূল্য ধরা হয়নি।
প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া জানালেন অগ্নিজনিত দুর্ঘটনা আমাদের দেশের একটা জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আমি উদ্ভাবন করেছি ‘নির্বানল-৭১’। একটি কাজ করতে হলে সবার আগে ইচ্ছে ও অর্থ দরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এক অভাবনীয় পরিকল্পনা হল উদ্ভাবনী বৃত্তি। যার ফলাফল আজকের এই প্রজেক্ট যা একটি জাতীয় সমস্যার সমাধান। আমি মন্ত্রী, সচিব এবং বৃত্তি শাখার সকলের কাছে কৃতজ্ঞ যাদের কারণে আমি আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।







