যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে চলা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন নেইমার। এমনই মনে করেন দলটির কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার আগে অবশ্য জাতীয় দলে ফিরতে হবে তাকে। এজন্য শর্তও দিয়ে রাখলেন সেলেসাও ইতালিয়ান কোচ।
বাঁ পায়ের চোটে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৯ গোল করা নেইমার। সবশেষ উইন্ডোয় তার ফেরার একটা সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে চোট তার পথ আগলে দাঁড়ায়। তবে নেইমার জানিয়েছিলেন, চোট নয়, অন্য কারণে তার জায়গা হয়নি। এ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি সে উইন্ডো শুরুর আগে।
এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরলেও আনচেলত্তির অধীনে এখনো কোনো ম্যাচ খেলা হয়নি ৩৩ বর্ষী নেইমারের। ইতালিয়ান কোচের অধীনে গত মার্চ থেকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ছয়টি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। কিন্তু চোটের কারণে কোনোটিতেই ডাক পাননি নেইমার।
সবশেষ সেপ্টেম্বরের দুই ম্যাচের জন্যেও তাকে বাইরে রেখে স্কোয়াড সাজিয়েছিলেন আনচেলত্তি। যদিও এ দফায় নেইমারের দাবি ছিল, ফিট থাকলেও টেকনিক্যাল কারণে তাকে স্কোয়াডে ডাকেননি আনচেলত্তি। তার দাবি ছিল, টেকনিক্যাল কারণে বাদ পড়েছেন। শারীরিক অবস্থার কারণে নয়। আর কোচের এমন সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন।
তবে নেইমারের এমন দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, নেইমারের প্রতিভা নিয়ে তার সংশয় নেই, তবে দলে জায়গা করে নিতে হলে গুরুত্ব পাবে ফিটনেস।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা কখনও নেইমার কেমন খেলে সেটা পর্যবেক্ষণ করতে যাব না। সবাই তার প্রতিভা সম্পর্কে জানে। আধুনিক ফুটবলে তার প্রতিভার সুবিধা নিতে হলে তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। যদি সে শারীরিকভাবে ফিট অবস্থায় থাকে, তার জাতীয় দলে জায়গা পেতে কোনো সমস্যা থাকবে না।’
‘সবাই নেইমারকে ফিট অবস্থায় জাতীয় দলে চায়। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম এবং বলেছিলাম, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে (বিশ্বকাপে) যাওয়ার এবং বিশ্বকাপে দলকে সেরা অবস্থানে নিতে সহায়তা করার জন্য তোমার হাতে সময় আছে।’
সাধারণত উইঙ্গার পজিশনে খেলে থাকেন নেইমার। সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং ভূমিকাতেও মাঝেমধ্যে দেখা যায় তাকে। তবে আনচেলত্তি মনে করেন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতি আছে নেইমারের। গত জুনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আগে ব্রাজিলিয়ান তারকার সঙ্গে খোলাখুলি কথাও বলেছেন আনচেলত্তি।
‘আমি তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগে সে হোটেলে এসেছিল এবং আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। সবকিছুই স্পষ্ট, একইরকম পরিকল্পনাই থাকছে। আমি তাকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বা স্ট্রাইকার হিসেবে খেলাব। তাকে সেন্ট্রাল পজিশনে খেলতে হবে। আধুনিক ফুটবলে ফরোয়ার্ডে খেলার জন্য শারীরিকভাবে সক্ষম হতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে কোনো সমস্যা ছাড়াই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে পারে।’







