‘সত্যি বলতে এটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। যদি দুই বছর আগে আমাদের বলতেন এমন ঘটতে চলেছে, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করতাম না। আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জুভেন্টাসকে ১-০ গোলে হারিয়েছিলাম, সেটা পুরনো ডিভিডিতে দেখতে পাবেন। সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অংশ হতে পেরে আমি রীতিমতো উড়ছি।’
দীর্ঘ ২০ বছর পর নিউক্যাসল ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান দলটির মিডফিল্ডার শন লংস্টাফ।
অথচ প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের ১১তম স্থানে ছিল নিউক্যাসল। একটা সময় রেলিগেশনের শঙ্কার মাঝেও পড়েছিল। বছর ঘুরতেই দারুণ প্রত্যাবর্তনে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। কোচ এডি হাও ফুটবলারদের সঙ্গে উদযাপনের পর দিয়েছেন সরল স্বীকারোক্তি। বলেছেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার আশাই করেননি।
‘অবশ্যই পয়েন্ট টেবিলের সেরা চারে থাকা নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার লক্ষ্য ছিল না। সবসময় এমনকিছুই আশা করে থাকবেন। সবসময় বিশ্বাস রাখতে হবে এবং স্বপ্ন দেখতে হবে। কিন্তু আমরা অনুভব করিনি যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
‘গত মৌসুমে রেলিগেশনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর এই বিশ্বাস ছিল যে, আমরা আসলেই একত্রিত হয়ে একটি ভালো দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারি। গত মৌসুমের মতো রেলিগেশনের বিরুদ্ধে যেন লড়তে না হয়, সেই লক্ষ্য ছিল। খেলোয়াড়দের এমন মানসিকতার জন্য যথেষ্ট প্রশংসা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তারা আমাকে এবং ক্লাবকে অনেক দিয়েছে।’
১৯০৪-০৫ মৌসুমে দলটি প্রথমবার জিতেছিল প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। তখন অবশ্য টুর্নামেন্টের নাম ছিল ফুটবল লিগ ফাস্ট ডিভিশন। উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের টাইন নদীর তীরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শহর নিউক্যাসল। এটি শিল্প বিপ্লবের সময় জাহাজ নির্মাণ এবং উৎপাদন কেন্দ্র ছিল। ব্যবসা, শিল্প ও বিজ্ঞানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা শহরটিতে ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় নিজস্ব ফুটবল ক্লাব। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ডাক নাম দ্য ম্যাগপাইস।
চারবার ফাস্ট ডিভিশন (বর্তমানে ইপিএল) ও ছয়বার এফএ কাপের শিরোপা জিতেছে নিউক্যাসল। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ক্লাবটি প্রথমবার উয়েফা কাপে খেলার সুযোগ পায়, আসরটির বর্তমান নাম ইউরোপা লিগ। ১৯৯৭-৯৮ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলে। ২০০২-০৩ মৌসুমে গ্রুপপর্বে জুভেন্টাসকে ১-০ গোলে হারানো তাদের ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায়।
পরে কেটে যায় ২০ বছর। এর মাঝে গেছে বহু খারাপ সময়। ২০১৫-১৬ মৌসুমে টেবিলের তলানির তিন দলের ভেতর পড়ায় রেলিগেশনের খড়গ নেমে আসে। এক মৌসুম পর আবারও প্রিমিয়ার লিগে ফিরে দশম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে। পরের আসরগুলোতে প্রথম দশের ভেতরেও ছিল না দ্য ম্যাগপাইস।
২০২১ সালের অক্টোবরে নিউক্যাসল বিক্রি করে দেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী মাইক অ্যাশলে। ৩০৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ক্লাবটি কিনে নেয় সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড, আরবি স্পোর্টস অ্যান্ড মিডিয়া এবং পিসিপি ক্যাপিটাল পার্টনারদের নিয়ে গঠিত কনসোর্টিয়াম।
ক্লাবের মালিকানা হাতবদল হওয়ার পরের মাসে কোচ হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক ইংলিশ ফুটবলার এডি হাও। আসতে থাকে একের পর এক পরিবর্তন। নতুন স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে ড্যান অ্যাশওয়ার্থকে গতবছরের মে মাসে নিয়োগ দেয়া হয়। মেজর লিগ সকার দল আটলান্টা ইউনাইটেড এফসি থেকে ড্যারেন ইলেস ক্লাবের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সের মান বাড়াতে এসব সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখে। ফল এখন হাতেনাতে পাচ্ছে নিউক্যাসল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সোমবার লেস্টার সিটির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে নিউক্যাসল। তাতে দলটি পয়েন্ট টেবিলের সেরা চারে থেকে আসর শেষ করা নিশ্চিত করেছে, সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট কেটেছে। ৩৭ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে নিউক্যাসল ইপিএল টেবিলের তিনে আছে।







